আলোচিতজাতীয়

রেডিও-টিভি-পত্রিকার অনলাইনের জন্য করতে হবে নিবন্ধন, নতুন নীতিমালা অনুমোদন

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পত্রিকা, টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলের অনলাইন সংস্করণের জন্য নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রেখে জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০২০ এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রীসভা।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

অনুমোদিত এই খসড়া নীতিমালাটি ২০১৭ সালের অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালার সংশোধনী খসড়া।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগের নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন, মানোন্নয়নসহ ১৪টি ইস্যুতে সংশোধনী আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালায় কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না। এগুলো হচ্ছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, নিবন্ধন ফি, কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিভিশন চ্যানেল এবং বেতারের নিউজ পোর্টাল হিসেবে প্রচারকার্য পরিচালনা, আইপি টিভি ও ইন্টারনেট রেডিও সম্প্রচারের মতো বিষয়গুলো।

নতুন খসড়া নীতিমালায় এগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এটি মন্ত্রীসভায় আলোচনার পর অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

নীতিমালায় আগের নয়টি অনুচ্ছেদ সংশোধন হয়েছে এবং পাঁচটি নতুন অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, টেলিভিশন ও রেডিওর পোর্টালের জন্য আগে অনুমতি নিতে হতো না। কিন্তু এখন নিতে হবে।

‘পত্রিকাগুলো যদি হুবহু (এক্সাটলি) কাগজে (হার্ড-কপি) যা ছাপছে, সেটাই যদি অনলাইনে দিয়ে দেয় তাহলে কোনো অনুমতি লাগবে না। কিন্তু যদি কেউ ভেরিয়েশন করে তখন তাকে অনুমতি নিতে হবে। কারণ, অনেকেই এক্সাটলি তা দিচ্ছে না। অনলাইন ভার্সনে ভেরিয়েশন থাকলে লাইসেন্স নিতে হবে,‍” তিনি বলেন।

এগুলোর জন্য সম্প্রচার কমিশন গঠন না করা পর্যন্ত তথ্য মন্ত্রণালয় যে কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে সেটাই কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকার সম্পাদকেরা বলছেন, অনলাইন পোর্টালের জন্য নতুন করে নিবন্ধন নেয়ার বিষয়টি আসলে দরকার ছিল না। এটি নতুন সংকটের সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি‌’র অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক ফখরুল জুয়েল বলেন, দেশের প্রচলিত নিয়ম-নীতি মেনেই সাংবাদিকতা করছিলাম আমরা। এরইমধ্যে নতুন করে অনলাইনের জন্য নিবন্ধনের দরকার ছিল না।

“এখন সরকার যদি বলে আমরা আবেদন করবো, আমাদের তো কোন অপশন নেই আসলে,” তিনি বলেন।

তবে অনেক সম্পাদকই নিবন্ধন নেয়ার বিষয়টিকে একটু ক্রিটিক্যালি দেখছেন। তারা বলছেন, তাদের সংবাদ মাধ্যমগুলো নিবন্ধন নেয়ার পরই সেগুলো চলছে। একই সংবাদ মাধ্যমের অনলাইন পোর্টালের জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে হলে তা সংকট তৈরি করতে পারে। যা আসলে দরকার ছিল না।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলছেন, “আমরা তো প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম যে নতুন করে অনুমোদনের দরকার নাই। কারণ সংবাদপত্র যথাযথ কার্যালয় থেকে প্রথম থেকেই নিয়ে থাকে, কাগজপত্র জমা দেয়, সরকারি সংস্থা সেটার তদন্ত করে, সেখানে দ্বিতীয় দফা অনুমোদনের আর দরকার নাই।”

মি. নিজাম বলেন, মেইনস্ট্রিম সংবাদপত্র বা মেইনস্ট্রিম টেলিভিশন সেখানে নতুন করে এই সংকট তৈরির দরকার ছিল না বলে তিন মনে করেন।

“সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলে বিশ্বাস করে, যদি তাই হয় তাহলে এই জটিলতার তারা একটা সমাধান করবে।”

এ বিষয়ে মঙ্গলবার তথ্যমন্ত্রীর সাথে সম্পাদকমন্ডলীর বৈঠক রয়েছে এবং সেই বৈঠকে এই বিষয়টি তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close