বিনোদন

অভিনেতা থেকে নেতা ফারুকের ৭২তম জন্মদিন আজ

গাজীপুর কণ্ঠ, বিনোদন ডেস্ক : এদেশে অভিনেতা থেকে নেতা হয়েছেন বেশ কয়েকজন শিল্পী। আবার নেতা হয়ে সফলতা পেয়েছেন খুব কম সংখ্যক শিল্পী। সেই অল্পকজন সফল অভিনেতা থেকে নেতা হওয়ার মধ্যে নায়ক ফারুক অন্যতম।

ছাত্রজীবন থেকে ফারুক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। জীবনের অনেকগুলো বছর পেরিয়ে বর্তমানে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য।

অভিনেতা হিসেবে সফলতার প্রমাণ বহু বছর আগেই দিয়েছেন তিনি। দর্শকপ্রিয় এই অভিনেতার জন্মদিন আজ। আজ তিনি ৭২ বছরে পা দিলেন।

ফারুকের জন্ম পুরনো ঢাকায়। বেড়ে ওঠা সেখানেই। ফারুকের পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। কিন্তু ফারুক নামে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পৈত্রিক নিবাস গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণসোম গ্রামে। বাবার নাম আজগর হোসেন। ৫ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। ব্যক্তি জীবনে ফারুক ভালোবেসে বিয়ে করেন ফারজানা পাঠানকে। তাদের দাম্পত্য জীবনে ফারিহা তাবাসসুম নামের একটি কন্যা ও রওশন হোসেন নামের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

চিত্রনায়ক ফারুক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামনের ডাকে সারা দিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এনে দেন স্বাধীন সার্বভৌত্বের লাল সূর্য। বিশ্ব মানচিত্রে অঙ্কন করেন বাংলা নামের একটি দেশের জলছবি। বর্তমানে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ফারুক।

ফারুক বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু আমার হৃদয়ে। এর বাইরে কখনো যেতে পারিনি, পারবোও না।’

ফারুক জানান, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। মিছিলে গিয়েছিলেন অনেকবার। এজন্য তার নামে মামলা হয়েছিল। হুলিয়া মাথায় নিয়েই মিছিলে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা হয়েছিল।

ছাত্রজীবনে অনেক সাহসী ছিলেন। ছিলেন ডানপিটে। পুরনো ঢাকায় তখন নাটক ও যাত্রাপালা হতো। বন্ধুদের নিয়ে মঞ্চ নাটক দেখতে গিয়ে বেশ কয়েকবার নাটক বানচাল করে দিয়েছেন। অথচ তাকেই কিনা অভিনয়ে আসতে হয়। বললেন, ‘কেমন করে যেন অভিনয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম! সেই প্রেম এক সময় ভালোবাসায় রূপ নিলো। আর ছাড়তে পারলাম না।’

‘জলছবি’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় আগমন ঘটে ফারুকের। তারপর অভিনয় করেন বিখ্যাত পরিচালক খান আতার ‘আবার তোরা মানুষ হ’ সিনেমায়। এভাবেই সফলতার সিঁড়িতে নাম লিখিয়েছেন তিনি, যা তাকে ঢাকাই সিনেমায় দিয়েছে এক অনন্য আসন।

বাহাত্তর বছরে পা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নদী চলমান। জীবনও চলমান। নদী কখনো থেমে যায়, কখনো শুকিয়ে যায়। মানুষও মরে যায়। কিন্তু, কর্ম রেখে যায়। কর্মই আসল। বাহাত্তর বছর বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে কী করেছি। দেশকে, সমাজকে কতটা দিতে পেরেছি। সাধ্যমত চেষ্টা করেছি দেশকে দেওয়ার। আরও দিতে চাই।’

আগস্ট মাসে জন্মদিন হওয়ায় ঘটা করে দিনটি পালন করেন না নায়ক ফারুক। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শহীদ হওয়ার পর থেকে তিনি নিজের জন্মদিনটি পালন করেন না। করতে ইচ্ছেও করে না তার।

ফারুক নস্টালজিক হয়ে বললেন, ‘মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর থেকে সিদ্ধান্ত নিই আগস্ট মাসে জন্মদিন তাই এ দিনটিতে উৎসব করে বা হইচই করে পালন করব না। আজও একইভাবে আছি। এ দিনে সত্যি মন খারাপ থাকে। কেননা, বাঙালির মহান নেতা এ মাসে মারা গেছেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি পালন করি না। করতে চাইও না।’

অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া ফারুকের আরও একটি নাম আছে। তা হচ্ছে মিয়াভাই। ‘মিয়া ভাই’ নামে একটি সিনেমাও করেছিলেন তিনি। সিনেমা শিল্পের মানুষরা তাকে ডাকেন ‘মিয়া ভাই’ বলে। বললেন, ‘ভালো লাগে সবাই যখন মিয়া ভাই ডাকেন। ভালোবাসা বুঝি এমনই।’

কখনো ফারুক মিয়া ভাই। আবার কখনো লাঠিয়াল। ‘লাঠিয়াল’ নামেও একটি সিনেমা আছে তার অভিনীত। ‘সারেং বৌ’ সিনেমার সারেং তিনি। ‘সুজন সখী’ সিনেমার সুজন তিনি। এইভাবে কতই না মনে রাখার মতো সিনেমায় অভিনয় করে বাঙালির ঘরে-ঘরে নায়ক হিসেবে পৌঁছে গেছেন ফারুক।

তার অভিনীত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ একটি স্মরণীয় সিনেমা। ‘আলোর মিছিল’, ‘নয়নমনি’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘সখী তুমি কার’, ‘কথা দিলাম’, ‘সূর্য গ্রহণ’— এ রকম অনেক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

এখন তিনি সিনেমা থেকে দূরে। অবশ্য দূরে নেই রাজনীতি থেকে। অভিনেতা থেকে নেতা হয়ে এখন অভিনয় কমিয়ে দিয়ে রাজনীতিটাই বেশি করছেন। তার মন্তব্য, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষকে ভালোবাসার চেয়ে বড় কী বা আছে?’

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ফারুক পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও আজীবন সম্মাননাসহ নানা পুরস্কার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close