বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও ৩টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চায় সরকার

গাজীপুর কণ্ঠ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : সময়টা খুব বেশি নয় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ডানা মিলেছে মহাকাশে। ২০১৮ সালের ১২ মে বাংলাদেশের এই প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। মিলেছে সাফল্যও। তবে এখানেই থেমে নেই, আরো তিনটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে সরকার।

আগামী ৯ বছরের মধ্যেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করবে বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট। এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। আগামী ৬ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চায় সরকার। ইতোমধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড ২য় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা এবং বাজেট নির্ণয়ে কাজ শুরু করেছে।

এছাড়াও ২০২৯ সালের মধ্যে আরো ২টি স্যাটেলাইট পাঠানোর চিন্তা করছে সরকার। এর মধ্যে ধারাবাহিক ভাবে- ২০২৩ সালে ২য়, ২০২৭ সালে ৩য় এবং ২০২৯ সালে ৪র্থ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইটের ডিজাইন এবং উৎক্ষেপণসহ কারিগরি সহায়তা দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেইন মেরিন সূক্ষ্ম। এছাড়াও ২য় স্যাটেলাইট তৈরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎক্ষেপণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে রাশিয়া ভিত্তিক স্পেস রিসার্চ সংস্থা গ্লাভকস্মস কোম্পানি।

এজন্য ২০১৯ সালের অক্টোবরে গ্লাভকস্মস কোম্পানির ডেপুটি ডিরেক্টর ভিতালি সেভেনভ ৬ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ার দল বাংলাদেশে আসেন। তারা বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের সাথে বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন।

এ সময় বাংলাদেশ এ নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত বলেন, রাশিয়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে তাদের একটি স্লট ভাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় রাশিয়া আরো স্লট দিতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে চাহিদা অনুসারে যেকোনো ধরনের স্যাটেলাইট প্রেরণ করতে সক্ষম রাশিয়া। এ সময় রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ স্যাটেলাইট তৈরিতে টেকনিক্যাল বিষয়ে সহায়তা, জনবল প্রশিক্ষণ, স্যাটেলাইটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং স্যাটেলাইট তৈরি ও উৎক্ষেপণ খরচ নিরূপণে পরামর্শক হিসাবেও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার সংসদে বলেন, বাংলাদেশ সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসাবে ২০২৩ সাল নাগাদ ২য় স্যাটেলাইট প্রেরণে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশে থেকে ২য় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ব্যাপারে প্রস্তাব পেয়ে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইটটি সরাসরি বাংলাদেশের উপর অবস্থান না করে কৌণিক ভাবে অবস্থান করছে তাই আমরা চাই আমাদের পরবর্তী স্যাটেলাইটটি যেন অবশ্যই আমাদের ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী কাছাকাছি থাকে। বাংলাদেশ চায় তার ২য় স্যাটেলাইট যেন অবশ্যই নিজস্ব কক্ষপথে থাকে যার মালিকানা বাংলাদেশের হাতে থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close