আন্তর্জাতিকতথ্য প্রযুক্তিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মানুষ নিয়ে মহাকাশ স্টেশনে ভিড়ল স্পেসএক্সের রকেট, গড়ল নতুন ইতিহাস

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন মহাকাশচারী ডগলাস হারলি এবং বব বেনকেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিরাপদে অবতরণ করেছেন। এর মাধ্যমে মহাকাশ অভিযানে নতুন এক যুগে প্রবেশ করলো যুক্তরাষ্ট্র।

নাসার এই দুই মহাকাশচারীকে বহনকারী ড্রাগন ক্যাপসুলটি তৈরি করেছে বিলিয়নেয়ার উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স। আর অর্থ ও কারিগরি সহযোগিতা করেছে নাসা।

ওই দুই মহাকাশচারী এখন ছিদ্র এবং বায়ু চাপ পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে এরপর তারা ভেতরে আগে থেকেই অবস্থানরত রুশ ও মার্কিন ক্রুদের সঙ্গে যোগ দেবেন। কোনো মহাকাশযানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্পেস স্পেশনে ডকিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কঠিন ও স্পর্শকাতর কারিগরি বিষয়। ডকিং নিখুঁতভাবে না করতে পারলে পুরো মিশনই ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। যেটি স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসল সফলভাবে করতে পেরেছে বলে জানিয়েছে নাসা।

গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে হারলি এবং বেনকেনকে নিয়ে মহাকাশে উৎক্ষিপ্ত হয় স্পেসএক্সের রকেট।

আজ থেকে নয় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে সর্বশেষ মহাকাশচারীকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে পাঠিয়েছে নাসা।

শনিবারের ঘটনার মাধ্যমে মহাকাশ অভিযানে নতুন ইতিহাসের মালিক হলো যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাপোলো মিশনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশন এটি।

এই প্রথম কোনো বেসরকারি বাণিজ্যিক রকেটে করে মহাকাশচারীকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠালো নাসা।

এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার বেলা ৪টা ৩৩ মিনিটে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে এসে স্থগিত করা হয়। পরে ৩০ মে শনিবার সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগনে প্রপেলেন্ট হিসেবে রয়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯, যেটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য। এ কারণেই অদূর ভবিষ্যতে মহাকাশ ভ্রমণের খরচ অনেক কমে যাবে এবং ব্যক্তিগত ভ্রমণের দ্বার উন্মুক্ত বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকে প্রথম কোনো রকেট মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া স্পেসএক্স তাদের ১৮ বছরের ইতিহাসে নিজেদের তৈরি মনুষ্যবাহী রকেট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে। রকেটে থাকছেন নাসার দুই মহাকাশচারী- ডগলাস হারলি এবং রবার্ট বেনকেন। এটি শনিবার পৃথিবীর কক্ষপথ ঘুরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ডকিং করে।

স্পেসএক্সের রকেটে নিজস্ব মহাকাশচারীকে মহাকাশে পাঠানো নাসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

জানা গেছে, ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান তৈরি ও পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের জন্য স্পেসএক্সকে নাসা ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি এককালীন অর্থ দিয়েছে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্লেনেটারি সোসাইটি বলছে, এটি বেশ বড় অংকের টাকা হলেও নাসার আগের মহাকাশ কর্মসূচির তুলনায় সাশ্রয়ীই বলতে হবে।

গত কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মানব আরোহীকে পৌঁছে দিতে একমাত্র সক্ষম রকেট ছিল রাশিয়ার সয়ুজ।

সয়ুজের আসনপ্রতি নাসাকে খরচ করতে হতো সর্বোচ্চ প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত দশকজুড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে লোক পাঠাতে নাসাকে প্রতি আসনের পেছনে গড়ে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার খরচ করতে হয়েছে। নাসার মহাপরিদর্শকের দফতরের ২০১৯ সালের নথিতে এমন তথ্যই রয়েছে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন রকেটে নাসাকে আসনপ্রতি খরচ করতে হবে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অবশ্য এটি চুক্তির তথ্য। আসনপ্রতি প্রকৃত খরচ কতো তা স্পষ্ট নয়।

 

সূত্র: বিবিসি ও সিএনএন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close