আলোচিতজাতীয়

যে কারণে জারি হতে পারে ‘জরুরী অবস্থা’?

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশে করোনা সঙ্কটে প্রায় ৮০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত করোনা সমস্যা সমাধানের কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং একের পর এক পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত, মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং অসচেতনতা, অর্থনৈতিক টানাপড়েন করোনা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। করোনা সঙ্কটের শুরু থেকেই সরকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, মানুষকে সচেতন করে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চেয়েছিলেন এবং সেজন্যেই সরকার কারফিউ বা লক ডাউনের পথে না গিয়ে সাধারণ ছুটির পথে গেছে। কিন্তু দেখা গেছে যে, মানুষ এই সাধারণ ছুটিকে খুব হালকাভাবে নিয়েছে। মানুষ এখনো করোনার ভয়াবহতা নিয়ে যথেষ্ট পরিমাণ সচেতন নয় বলেই মনে করা হচ্ছে এবং এই বাস্তবতায় সামনের দিনগুলোতে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে অনেকে।

অনেকেই মনে করছেন যে অনেক হয়েছে, এখন সরকারকে জরুরী অবস্থা জারি করা প্রয়োজন। কারণ জরুরী অবস্থা জারি না করলে মানুষকে এই করোনা সঙ্কটের ভয়াবহতা নিয়ে উপলব্ধি করানো সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের সংবিধানে ১৪১ এর ‘ক’ তে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিসাক্ষরের ভিত্তিতে জরুরী অবস্থা জারি করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এই জরুরী অবস্থা জারির সর্বোচ্চ সময়সীমা ১২০ দিন। এটা বহিরাক্রমণ, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সঙ্কটের কারণে জরুরী অবস্থা জারি করা যায় বলে সংবিধানের ১৪১ এর ‘ক’ তে বলা হয়েছে। আর এই বিবেচনায় অনেকে মনে করছেন বহুত হয়েছে, এখন জরুরী অবস্থা জারি করা দরকার।

কেন জরুরী অবস্থা জারি করা দরকার? কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকরা একাধিক কারণ দেখাচ্ছে। তাঁর মধ্যে হচ্ছে-

১. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ

করোনার জন্যে জরুরী অবস্থা জারি করলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে। এই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটা এখন জরুরী এবং অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন যে, প্রধানমন্ত্রীকে এখন আরো বেশি কঠোর হতে হবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে। যেভাবে তিনি ছোট মন্ত্রীসভা গঠনের মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করে ভার্চুয়াল আদালত গঠন করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে করোনা মোকাবেলায় অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে।

২. কারফিউ জারি করা

করোনা মোকাবেলার জন্য সাধারণ ছুটি নয়, বরং কারফিউ জারি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর জরুরী অবস্থা জারি করলে কারফিউ জারি করা নিয়ে কোন আইনগত সমস্যা তৈরি হবেনা এবং যেহেতু জরুরী আইনে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর দাবি সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। কাজেই অবাধ চলাফেরা করা, ব্যক্তিস্বাধীনতাসহ মৌলিক স্বাধীনতাগুলো যদি বন্ধ করা যায় তাহলে কারফিউ জারি করা সহজ হবে।

৩. গুজব ঠেকানো

করোনা সঙ্কটের থেকেও বড় সঙ্কট হিসেবে দেখা যাচ্ছে গুজব সন্ত্রাস। গুজব ছড়িয়ে সমাজের নানা স্তরে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং এই জন্যেই জরুরী অবস্থা জারি করলে এই গুজব সন্ত্রাস ঠেকানো সহজ হবে।

৪. অযাচিত সমালোচনা বন্ধ করা

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যর্থতা অবশ্যই আছে। কিন্তু কিছু কিছু সমালোচনা করা হচ্ছে অযৌক্তিক এবং অযাচিত। জরুরী অবস্থা গ্রহণ করলে এই অযৌক্তিক এবং অযাচিত সমালোচনা বন্ধ করা যাবে। কারণ এখন যে সঙ্কট সেই সঙ্কটে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখন সমালোচনা বা বিরুদ্ধাচারণের সময়ে নেই। বরং এখন সময় ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা সঙ্কট এবং এই সঙ্কটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করা। কাজেই এই জন্যে এইসব অযাচিত সমালোচনা বন্ধের জন্যে জরুরী অবস্থা জারি করা প্রয়োজন।

৫. মানুষকে সঙ্কটের গভীরতা বোঝানো

মানুষ এখনো মনে করছে যে, করোনাতে তাঁর কিছুই হবেনা। মানুষজন ইচ্ছেমতো ঢাকার বাইরে ছুটি কাটাতে যাচ্ছে, আবার ফিরে আসছে। মানুষ বাজারহাটে যাচ্ছে, কারণে অকারণে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অর্থাৎ এই করোনা সংকটটি কি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে তা মানুষ উপলব্ধি করতে পারছে না। আর একারণে মানুষকে সঙ্কটের গভীরতা বোঝানোর জন্যে হলেও জরুরী অবস্থা জারি করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এখন আমরা সবথেকে খারাপ সময়ে চলে এসেছি। এখন আমাদের সময় দ্রুত সময় ফুরিয়ে আসছে, আমাদের করোনা মোকবেলার সবগুলো অস্ত্র শেষ হয়ে যাচ্ছে- এই অবস্থায় আমাদের জরুরী অবস্থা জারির কোন বিকল্প নেই। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার সেই কঠিন পথে হাঁটবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close