আইন-আদালতগাজীপুর

গাজীপুরে ভার্চ্যুয়াল আদালতে ১৩৩ মামলার শুনানি, ৯৮ মামলায় জামিন

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে গাজীপুরে পৃথক পাঁচটি আদালতে ১৩৩ টি মামলার জামিন আবেদনের শুনানি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ মামলায় জামিন মঞ্জুর ও ৩৫ মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১৮ মে) গাজীপুরে পাঁচটি ভার্চ্যুয়াল আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন কাজল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে গাজীপুরে পাঁচটি ভার্চ্যুয়াল আদালতে মামলার কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) মেহেরুন নেছা, নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল বিচারক এএফএম মেজবাহ উদ্দিন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম (ভার্চ্যুয়াল-১), সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুল ইসলাম (ভার্চ্যুয়াল-২) এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম (ভার্চ্যুয়াল-৩) এর আদালত।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন কাজল বলেন, ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) মেহেরুন নেছার আদালতে ২০ টি মামলার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে ১০ মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। এছাড়া বাকি ১০ মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) বলেন এ কে এম আহসান হাবীব বলেন, ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সোমবার তিনটি ভার্চ্যুয়াল আদালতে ৭৩ টি মামলার জামিন আবেদনের শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ মামলায় জামিন মঞ্জুর এবং ১০ মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

গাজীপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, আদালতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সোমবার জেলার পাঁচ থানার ৪০ টি মামলার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। এর মধ্যে ২৫ মামলায় ৩২ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়াও ১৫ মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

উল্লেখ্য : করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালতেও সাধারণ ছুটি চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে ৯ মে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য–প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০’ শিরোনামে অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর ফলে অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়া ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অধস্তন আদালতে শুধু জামিন–সংক্রান্ত বিষয়গুলো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close