আলোচিতরাজনীতি

শেখ হাসিনা কি তার রিজার্ভ টিম নামাবেন?

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : করোনায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে দেশ। টানা দুই মাসের ছুটি চলছে। কিন্তু করোনা সমস্যা সমাধানের কোন নাম নিশানা এখন পর্যন্ত নেই। সঙ্কট সমাধানের পথ কোথায়, তা এখনো হাতড়ে বেড়াচ্ছে সকলে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না কূলকিনারা। ধেয়ে আসছে অর্থনৈতিক সঙ্কট। অর্থনৈতিক সঙ্কট করোনার থেকেও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এই মুহুর্তে এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে টিম নিয়ে করোনা মোকাবেলা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, সেই টিম যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষ নয় এবং এই পরিস্থিতি সামাল দেবার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন নয়। তাহলে কী করবেন শেখ হাসিনা? তিনি কি এই টিমকেই আরো সুযোগ দেবেন?

করোনা মোকাবেলায় প্রথম থেকেই শেখ হাসিনা রাজনীতিবিদদের চেয়ে আমলাদের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। আমলাদের দিয়েই তিনি করোনা সঙ্কট মোকবেলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। তার বিবেচনা এরকম ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, আমলারা যথাযথভাবে তার নির্দেশ প্রতিপালন করবেন এবং মাঠ পর্যায়ে তারা দুর্নীতি-অনিয়মগুলো বন্ধ করবেন এবং দলমতের উর্ধ্বে থেকে একটি প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করোনা সঙ্কট সমাধানের প্রয়াস শেষ পর্যন্ত সফল হবে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের আড়াই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত এই টিম সফল বলে কেউ মনে করে না। বরং বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাব, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের অদক্ষতা এবং একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাথে সাথে তার যে ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার প্রত্যুৎপন্নমতিতা এই সমস্ত আমলাদের নেই বললেই চলে। যার ফলে একের পর ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে এবং সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে।

আমরা যদি করোনার সমস্যার দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে যে, প্রথম দফায় যখন করোনা ছুটি ঘোষণা করা হলো, সেই ছুটি ঘোষণার সাথে সাথে মানুষ ঘরমুখী হলো। লঞ্চ, বাস, ট্রেন উপচে পড়লো ঘরমুখী মানুষের ভিড়ে। এ যেন ঈদের ছুটি শুরু হয়ে গেছে। তারপর বলা হলো যে, গণপরিবহন বন্ধ, বাস বন্ধ, ট্রেন চলাচল বন্ধ। সব বন্ধ করে দেওয়া হলো। কিন্তু ততক্ষণে যা সর্বনাশ হবার তা হয়েই গেছে । অথচ এই সংকট সমাধানে যদি রাজনৈতিক টিম থাকতো তাহলে সমস্যা সমাধানে অন্যরকম ফলাফল হতে পারতো বলেও বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এই টিমের যে আন্তরিকতা নেই তা নয়, কিন্তু কিছু কিছু সমস্যার আমলাতান্ত্রিক সমাধান নেই। সমস্যা সমাধান করতে হয় রাজনৈতিক ভাবে। যেমন- মানুষকে ঘরে রাখা নিশ্চিত করবার জন্য শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদ, বিশেষ করে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদের দরকার। আর রাজনীতিবিদদের সঙ্গে জনগণের যেরকম সম্পর্ক, সেই সম্পর্ক কখনই আমলাদের সঙ্গে হয়না।

এরপর ধরা যাক, দুঃস্থ মানুষদের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেয়া। আমরা দেখছি যে, রাজনীতিবিদদের এলাকাগুলোতে যেভাবে দুঃস্থ মানুষ খাবার পাচ্ছে, ব্যবসায়ী, এমপি বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের এলাকায় সেরকমভাবে ত্রাণের সাহায্য পৌঁছাচ্ছে না। বরং সে সমস্ত ত্রাণ তৎপরতাগুলো আমলা নির্ভর। অনেক প্রকৃত মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। আবার একজন একাধিক বার ত্রাণ পাচ্ছেন এমন দেখা যাচ্ছে। এই রকম জটিলতা দূর করবার জন্য এখন রাজনীতিবিদদের সামনে আসা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের কথাই ধরা যাক। তিনি তার এলাকায় প্রতিটি গরীব মানুষকে নিয়মিতভাবে ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছেন এবং ত্রাণ নিয়ে কোনো সংকট নেই। পুরো ভোলা এলাকার এমপিরা যেভাবে কাজ করছে তা সারা বাংলাদেশ এর জন্য একটি উদাহরণ। এখানেই রাজনীতিবিদদের বিষয়টি সামনে এসেছে ।

কৃষিমন্ত্রী হিসেবে মতিয়া চৌধুরীও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার কৃষিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনা মোকাবেলা ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে আশাবাদের জায়গা। অথচ কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষকদের জন্য প্রণোদনা শেষ পর্যন্ত কৃষকরা পাবেন, নাকি অন্য কেউ পাবেন, এ নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। সে কারণে এই সংকটে মতিয়া চৌধুরীর নাম সামনে চলে আসছে।

এখন রাজনৈতিক সংগঠন দরকার, তৃনমূলকে উদ্দীপ্ত করা দরকার। উদ্দীপ্ত করে তাদেরকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশনা দরকার। দরকার দলীয় সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিকল্পনা। আর সে জন্য মাঠের লড়াকু কর্মীদের কোন বিকল্প নেই।

জাহাঙ্গীর কবির নানক কিংবা মির্জা আজমের মতো নেতাদের এখন বড় প্রয়োজন। আর তাই এমন নয় যে শেখ হাসিনা সামনে কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার একটি দক্ষ রাজনৈতিক টিম আছে। রাজনৈতিক সংগঠনে নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী এবং পরিক্ষিত নেতারা আছেন। আছেন জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কর্মী বাহিনী। আর এই শক্তিটাকে কাজে লাগিয়ে শেখ হাসিনা সংকট উত্তরনের চেষ্টা করতে পারেন।

শেখ হাসিনার সামনে এখন দুটি বিকল্প-

প্রথমত; বর্তমান টিমকে নিয়েই তিনি চেষ্টা করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত; তিনি তার রিজার্ভ টিম রাজনৈতিক শক্তিকে মাঠে নামাতে পারেন।

শেখ হাসিনা কোন পথে যাবেন তা ঈদ এর পর পরই বোঝা যাবে, যখন করোনা সংক্রমণের প্রকৃত অবস্থা আমরা বুঝতে পারবো। সেই সাথে অর্থনৈতিক সংকট কত গভীরে যাচ্ছে তাও উপলব্ধি করতে পারবো। তখন শেখ হাসিনা তার রিজার্ভ টিম নামাবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত তিনি হয়তো নেবেন।

 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close