আলোচিত

৩ হাজার কারাবন্দির মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু, প্রথম দিন ১৭০ জনকে মুক্তি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : করোনাভাইরাস সঙ্কটে কারাগারগুলোর ভার কমাতে ৩ হাজার সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কারাগারগুলোতে পৌঁছানোর পর তা কার্যকরও শুরু হয়ে গেছে।

শনিবার প্রথম ধাপে ১৭০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন।

তিনি বলেন, “সরকার বিশেষ বিবেচনায় লঘুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় ৩ হাজার সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।”

দেশে ৬৮টি কারাগারে ৯০ হাজারের মতো বন্দি রয়েছে, যা কারাগারগুলোর ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি।

কোভিড-১৯ অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে বলে কারাগারগুলোতে ঝুঁকির মাত্রা থাকে অত্যন্ত বেশি। সেজন্য বন্দির চাপ কমানোর উদ্যোগ নেয় সরকার।

শনিবার দেশের বিভিন্ন কারাগারে থেকে ১৭০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে কর্নেল আবরার বলেন, বাকিদের পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হবে।

‘লঘুদণ্ড’র ব্যাখ্যায় এই কারা কর্মকর্তা বলেন, “বিভিন্ন অপরাধে যাদের সাজা এক বছর এবং তার থেকে কম হয়েছে, তাদের বেলায় এই আদেশ কার্যকর করা হচ্ছে।”

পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সপ্তাহখানেক লাগবে বলে জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে করোনাকালীন সময়ে বিশেষ বিবেচনায় দুই বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

শনিবার (২ মে) দুপুরে তাদেরকে জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।

কারামুক্তরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনী র‍্যালি বাগান এলাকার বিল্লাল ও রূপগঞ্জের হাউলিপাড়া এলাকার গুলজার। এদের দুজনই মাদক মামলায় বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। এর মধ্যে বিল্লালের ১ হাজার টাকা জরিমানাও দিয়েছিল আদালত।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, আমরা ইতোমধ্যেই সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ থেকে ২০৫ জন বন্দির তালিকা দিয়েছিলাম। অপরাধ বিবেচনায় লঘু অপরাধের আসামিদের নাম তালিকায় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনের নাম শুক্রবার এসেছে, তাদের শনিবার মুক্তি দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এদের দুজনই এক বছরের বিনাশ্রম সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এর মধ্যে বিল্লাল দরিদ্র হওয়ায় তার অর্থদণ্ডের ১ হাজার টাকা কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ সাজা মওকুফ হলেও অর্থদণ্ড মওকুফ করা হয়নি।

নওগাঁ জেলার কারাগার থেকে শনিবার ১১ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁর কারাধ্যক্ষ শাহ আলম বলেন, যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, তাদের মুক্তির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রথম দিনে মুক্তিপ্রাপ্তদের অধিকাংশই ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বলে জানান তিনি।

 

সূত্র: বিডিনিউজ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close