আলোচিত

পুলিশে করোনা-সংকট: বেশি আক্রান্ত ব্যারাকের মেসে

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পুলিশের যে সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই ‘মাঠ পর্যায়ের’৷ অধিকাংশই ব্যারাকের মেসে থাকেন। পুলিশ বিভাগে এখন সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন তারা।

পুলিশ সদর দপ্তর বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে ২১৮ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায়। আর কোয়ারিন্টিনে আছে ৬৫২ জন।

রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মনোয়ার হাসনাত শুক্রবার বলেন, ‘‘সারাদেশে আক্রান্ত আরো বেড়েছে। এখন ঢাকায়ই আক্রান্ত ২১৮ জন, যারা রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আছেন। বৃহস্পতিবার এখানে ছিল ১৮৮ জন। বাকিরা দেশের অন্য এলাকায় চিকিৎসাধীন।’’

তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের যারা সরাসরি মাঠে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। তাই তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন৷ তারা ব্যারাকের মেসে থাকেন। সেখানে তো সামাজিক দূরত্ব রাখা কঠিন। এটা একটা বড় সমস্যা।’’

কোথায় এবং কারা বেশি আক্রান্ত
পুলিশে যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের দুই তৃতীয়াংশের বেশি ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) এলাকার। এরপরই গাজীপুরের অবস্থান। আক্রান্তের দিক দিয়ে তারপরে রয়েছে গোপালগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ। আর আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ডিএমপি’র একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারও (এডিসি) আছেন। বাকিরা কনেস্টবল, সহকারি সাব-ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের।

পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন ‘‘ফিল্ড লেভেলে দায়িত্ব পালন আক্রান্ত হওয়ার একটি বড় কারণ। যারা ফিল্ড লেভেলে কাজ করেন তাদের বড় একটি অংশ পুলিশ মেসে থাকেন। সেখানে থাকার যে ব্যবস্থা তাতে সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হয় না। তাদের খাবার মান নিয়েও প্রশ্ন আছে৷আর পুলিশকে তো এখন চেকপোস্ট, লকডাউন, আসামি ধরা, করোনার লাশ দাফন, রোগীকে হাসপাতালে পাঠানো, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা- সব দায়িত্বই পালন করতে হয়। ফলে তাদের করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি অনেক বেশি৷।’’

ডা. মনোয়ার হাসনাত বলেন, ‘‘রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে যারা আছেন তাদের মধ্যে সংকটাপন্ন কেউ নেই। এরই মধ্যে চারজন সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। হাসপাতালটি আড়াইশ’ বেডের। পুলিশের আরো কয়েকটি স্থাপনায় সেন্টার করা হচ্ছে। এখানে আইসিইউ সুবিধা আছে। ১৭টি ভেন্টিলেটার আছে। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। এর বাইরে দুটি হাসপাতালের সাথেও আমরা চুক্তি করছি।’’

ডিএমপিতে যে কারণে বেশি

ডিএমপিতে কেন বেশি আক্রান্ত জানতে চাইলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘‘অন্যসব বিষয় বাদ দিলেও বাংলাদেশ পুলিশের মোট ফোর্স দুই লাখ ১০ হাজার। এরমধ্যে ডিএমপিতে আছে ৩৪ হাজার। ঢাকা সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ঢাকায় করোনা আক্রান্তও সবচেয়ে বেশি। আর সেই বিবেচনায় সারাদেশের মধ্যে ঢাকায়ই করোনায় আক্রান্ত পুলিশ বেশি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা চাইলেই তো ব্যারাকের মেস থেকে সব পুলিশ সদস্যকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো না। তাই এখন চেষ্টা করছি যতদূর সম্ভব এর মধ্যে তাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে। একটি অংশকে পুলিশের অন্য স্থাপনায়ও সরিয়ে নিচ্ছি। ব্যারাকের বেডগুলোর দূরত্ব বাড়াচ্ছি। ডাইনিং টেবিলে পাশাপাশি বসার ব্যবস্থা বাতিল করে দুই প্রান্তে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ আর ডা. মনোয়ার বলেন, ‘‘আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারিন্টিনের ব্যবস্থা করছি। যাদের প্রয়োজন. তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসছি।’’

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
এরইমধ্যে পুলিশ সদস্যদের জন্য বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷ যারা আক্রান্ত তাদেরসহ পুরো ফোর্সের মনোবল চাঙ্গা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের ভিটামিন সি ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ডিএমপির উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, ‘‘পুলিশ সদস্যদের জন্য মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোভস দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পিপিই দেয়া হয়েছে। আর তাদের ব্যারাকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের ওয়াশ রুম উন্নত করা হয়েছে৷ গরম পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’

তিনি আরো জানান, ‘‘যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের সুচিকিৎসার পাশাপাশি মনোবল চাঙ্গা রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাদের পরিবারের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হাসপাতালে ওয়াইফাই সংযোগ ও বই দিয়েছি আমরা। আর আমাদের সিনিয়র অফিসাররা তাদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন।’’

পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে৷ পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের খোঁজখবরও নয়া হচ্ছে নিয়মিত।

এদিকে বিভাগীয় পর্যায়েও পুলিশের জন্য করোনা সেন্টার খোলা হচ্ছে। এছাড়া দাগী আসামি না হলে পুলিশকে আসামি ধরায় নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

 

 

এ সংক্রান্ত আরো জানতে……….

জিএমপি’র গাছা জোনের এসি’সহ থানার চারজনের করোনা পজেটিভ

গাছা থানার আরো ২০ জন পুলিশ সদস্যের করোনা পজেটিভ

কালীগঞ্জে নতুন করে ৯ পুলিশসহ ১৪ জন করোনা পজেটিভ, মোট ৮৯

 

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close