আলোচিতইসলামধর্ম

মসজিদে নামাজ ও মোনাজাতের ছবি তুলতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন তারা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ সারাদেশে জুমার নামাজের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামী ফাউন্ডেশন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ছিল টানা ছুটির মধ্যে দ্বিতীয় জুমা। জুমায় বায়তুল মোকাররমের খতিব কী বলেন তা নিয়ে অনেকের আগ্রহ ছিল। একই কারণে গণমাধ্যম কর্মীরা এ সংক্রান্ত খবর তাৎক্ষণিক পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভিড় করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদে।

এদিন নামাজ শুরু হওয়ার আগেই প্রায় সবগুলো টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা পারসন, জাতীয় পত্রিকা এবং অনলাইন নিউজপোর্টালের ফটোসাংবাদিকরা বায়তুল মোকাররমে এসে হাজির। তাদের উদ্দেশ‌্য মুসুল্লিদের ছবি তোলা। কিন্তু ছবি তুলতে গিয়ে এসব গণমাধ‌্যমকর্মীদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে ভিডিও ও ছবি তোলার সময় কোনো কোনো ফটোসাংবাদিকের তৎপরতা খুবই আগ্রাসি ছিল। ছবি তুলতে গিয়ে তারা নামাজরত মুসুল্লিদের সামনে দিয়ে যাতায়াত থেকে শুরু করে দৌড়াদৌড়িও করেন। যা স্বাভাবিক আচরণ নয়। এতে অনেক মুসুল্লির নামাজ ও মোনাজাতে ব্যাঘাত ঘটে।

বিষয়গুলো দৃষ্টিকটূ হলেও ফটোসাংবাদিকদের এদিকে তেমন খেয়ালই ছিল না। তারা নামাজ ও মোনাজাতের মাঝখানেই ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজের পর একজন মুসল্লি মোনাজাতে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একজন ফটোসাংবাদিক দ্রুত এসে তার ছবি তুলতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তা দেখে আরো একজন ফটোসাংবাদিক ঠিক তার পেছনে এমনভাবে দাঁড়ান এবং যেভাবে অঙ্গভঙ্গি করে ছবি তোলেন তা শুধু দৃষ্টিকটুই নয় মসজিদের পরিবেশকেও ক্ষুন্ন করেছে।

কয়েকজন মুসল্লি এ দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে যান। তারা এমন আচরণ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফটোসাংবাদিকদের এমন আচরণে তারা চরম বিরক্ত হন।

বায়তুল মোকাররমের একজন সিনিয়র মুয়াজ্জিন বলেন, ‘সাংবাদিকদের মসজিদে প্রবেশ ও ছবি তোলার ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সাংবাদিকদের জন্য বায়তুল মোকাররম সবসময় উন্মুক্ত। তবে মসজিদে নামাজ ও মোনাজাত চলাকালীন সবারই সতর্ক থাকা উচিত। কোনভাবেই যেন পরিবেশ নষ্ট না হয় এবং মুসুল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে দৃষ্টি রাখা উচিত।

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ফটোজার্নালিস্ট অ‌্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার ফটোসাংবাদিক আমিনুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘ছবি তোলার সময় একজন ফটোসাংবাদিককে শুধু ছবির কথাই চিন্তা করতে হয়। ছবিটা যেন সুন্দর এবং প্রাণবন্ত হয়, সেজন্য প্রানান্তরকর চেষ্টা করতে হয়। ছবি কথা বলে। তাই ভালো সাবজেক্ট পেলে অনেকে স্থান-কাল-পাত্র ভুলে যান। তখন মাথার মধ‌্যে কেবল ছবির কথাই ঘোরে। তবে ধর্মীয় উপাসনালয়ে ছবি তোলার সময় অবশ‌্যই কেউ বিরক্ত হয় এমন আচরণ করা থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়।

 

সূত্র: রাইজিংবিডি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close