মুক্তমত

বিজিএমইএ ভবনে স্থাপন করা যেতে পারে করোনা রোগীদের হাসপাতাল

শামসুল হুদা লিটন : বর্তমান বিশ্বের সকল দেশের মানুষ করোনা আতঙ্কে ভুগছেন। বিগত এক শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে পৃথিবীর সকল দেশ-জাতি। মৃত্যুর মিছিল আজ দেশে দেশে। মানুষ মৃত্যুর সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। ১৭৬ টি দেশে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এ পর্যন্ত দশ হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে। করোনা ভাইরাসে থমকে গেছে পৃথিবী। বন্ধ হয়ে গেছে সব রকমের স্বাভাবিক কার্যক্রম। মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা থেকে শুরু করে সকল ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা সমাবেশ যেন আজ ঘোষিত -অঘোষিত ভাবে বন্ধ। মানুষের জীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। মানুষ এড়িয়ে চলছে মানুষকে।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২০ জন। মৃত্যু হয়েছে ইতোমধ্যে ১ জনের। দেশের বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে অসংখ্য মানুষ। অনেককেই বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউন শিবচর উপজেলা। ঢাকার সাথে বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আজ বিচ্ছিন্ন। প্রতি দিন প্রবাসীরা আসছে দেশে। দিন দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ও বাড়ছে। হাসপাতালগুলি চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভীড়। সরকার করোনা রোগীদের জন্য কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। টঙ্গীতে বিশ্ব এজতেমা মাঠে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা করছে সরকার।

কিন্ত বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসসহ সংক্রমণ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক কোন হাসপাতাল নেই। দেশে এ ধরনের হাসপাতালের খুবই প্রয়োজন। বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ঢাকার হাতির ঝিলের বহুল আলোচিত বিজিএমইএ ভবন করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য আশার আলো জ্বালাতে পারে। মানবের কল্যাণে কাজে লাগতে পারে খালি এ ভবনটি । জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে আপাতত বিজিএমইএ ভবন না ভেঙে এটাকে আরো উন্নত ও আধুনিক করে করোনা রোগীদের হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে ইতোমধ্যে অনেকেই দাবি জানিয়েছেন।

দেশের এ দুঃসময়ে বিজিএমইএ ভবন হতে পারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের একটি উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র ও হাসপাতাল। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। আমরা এখনো সব ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারিনি। দেশের এ অবস্থায় স্বল্প সময়ের মধ্যে করোনা রোগীদের জন্য নতুন একটি হাসপাতাল বানানোও সম্ভব নয়। শতকোটি টাকার এ ভবন আমাদের জাতির উপকারে আসতে পারে। বিজিএমইএ ভবনটিকে না ভেঙে এটাকে হাসপাতাল হিসেবে উপযুক্ত করে মানুষের প্রয়োজনে কাজে লাগানো যেতে পারে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই এ ভবন। বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের পরীক্ষার পর এখানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা সহজ হবে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের আইসোলেশনের জন্য বিজিএমইএ ভবন একটি উপযুক্ত স্থান হতে পারে। মানুষের জন্যই আইন। আইনের জন্য মানুষ নয়। মানুষের প্রয়োজনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণই সময়ের দাবি।

 

লেখকঃ
অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন
সাধারণ সম্পাদক
কাপাসিয়া প্রেসক্লাব, গাজীপুর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close