গাজীপুর

’তাকওয়া বাস চালকের চুক্তিতে’ ভাড়াটে খুনি হত্যা করে পুলিশ কনস্টেবল শরীফকে!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গত ৩ মার্চ তাকওয়া বাস চালক মনির একটা চাকু কেনেন ৯৯ টাকা দিয়ে। পরে বুকের ওপর বসে এবং ধারালো চাকু দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল শরীফকে হত্যা করে দশ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়াটে খুনি মাসুদ। হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি পেয়েছিলেন পাঁচ হাজার টাকা।

রোববার কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিং এসব কথা জানায় র‍্যাব।

পুলিশ কনস্টেবল মো. শরীফ আহামেদ খুন হন গত ৩ মার্চ দিবাগত রাতে। তাঁর গলাকাটা লাশ গাজীপুর মহানগরীর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ৪ নম্বর গেটের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। বেওয়ারিশ হিসেবে শরীফের মৃতদেহটি দাফন করা হয় গাজীপুর মহানগরীর পূর্ব চান্দনা কবরস্থানে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁর আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে মৃতদেহ শনাক্ত করে।

জানা যায়, শরীফ আহামেদ পুলিশ কনস্টেবল মো. আলাউদ্দিন হোসেনের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন পর র‍্যাব মো. মোফাজ্জল হোসেন (২৮), মো. মাসুদ মিয়া (২৫) ও মো. মনির হোসেন (৩০) কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিকভাবে দায় স্বীকার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, শরীফ গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে মোফাজ্জল ও গাজীপুরের তাকওয়া বাসের চালক মনিরের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। কিছুদিন আগে এই দুজনের সঙ্গে শরীফের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ওই দ্বন্দ্বের জেরেই তারা দুজন শরীফকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মোফাজ্জল ময়মনসিংহে যান। তাঁর গ্রামের বাড়ির দূরসম্পর্কের আত্মীয় ও ভাড়াটে খুনি মাসুদের সঙ্গে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তির অংশ হিসেবে মাসুদ আগেই পাঁচ হাজার টাকা নেন। পরে দুজনে গাজীপুরে মনিরের বাসায় বসেন। গত ৩ মার্চ তাকওয়া বাসের চালক মনির একটা চাকু কেনেন ৯৯ টাকা দিয়ে।

ওই দিনই (৩মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোফাজ্জল কৌশলে কনস্টেবল শরীফকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নিয়ে আসেন। তারপর তাকওয়া পরিবহনে ওঠায়। পরে গাড়িচালক মনির বাসটি চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক ধরে শ্রীপুরের দিকে এগোতে থাকে। জয়দেবপুরের ভবানীপুর বাজার থেকে ইউ টার্ন নিয়ে আবারও চান্দনা চৌরাস্তার দিকে যেতে থাকে। তারা বাসের দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মাসুদ হুইল রেঞ্জ দিয়ে শরীফের মাথায় আঘাত করেন। শরীফের মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে মাসুদ ও মোফাজ্জল দুজনে মিলে নাইলনের রশি দিয়ে শরীফের দুই হাত বেঁধে গাড়ির পেছনের দিকে নিয়ে যায়। এরপর মোফাজ্জল শরীফের বুকের ওপর বসে এবং মাসুদের সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে শরীফকে হত্যা করে।

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শরীফের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা তিনজনে ভাগ করে নেয়। রাত ২টার দিকে বাস চালিয়ে তারা জাতীয় উদ্যানে যায় ও লাশটি ফেলে আসে। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা চাকু টিও রাস্তার পাশে ঝোপে ছুড়ে ফেলে দেয়।

হত্যার পরও স্বাভাবিক ছিলেন খুনিরা:

শাফী বুলবুল বলেন, হত্যাকারীরা তাদের কাপড়চোপড় পলিথিন ব্যাগে ভরে টুলবক্সের ভেতরে রাখে। গাড়িতে রক্তের দাগ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে। তারপর মনির তার বাসা থেকে পরিষ্কার কাপড়চোপড় এনে তাঁর সহযোগীদের দেন। গোসল ও খাওয়াদাওয়া সেরে ভোর ৬টার দিকে বাস সার্ভিসিং এর জন্য কোনাবাড়ীতে যান। রক্তমাখা জামাকাপড় কড্ডা ব্রিজের নিচে ফেলে দেয়। পরে মাসুদ তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দায় চলে যায়। মোফাজ্জল ও মনির স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যায়। মাসুদ একজন থ্রি হুইল ড্রাইভার। শম্ভুগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কে তিনি মাহেন্দ্র গাড়ি চালান।

 

 

এ সংক্রান্ত আরো জানতে…………..

কনস্টেবল শরীফ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

টঙ্গী পূর্ব থানায় হয়েছিল সাধারণ ডায়েরি, তবু ‘কনস্টেবলের লাশ দাফন বেওয়ারিশ হিসেবে’?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close