আলোচিতরাজনীতি

পাপিয়া কেলেঙ্কারির পর এখন নারী নেত্রীদের চেনেন না মন্ত্রীরা!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পাপিয়া কেলেঙ্কারির পর এখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা নারী নেত্রীদেরকে এড়িয়ে চলছেন। দেখা হলেও এমনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন যে তাদেরকে চেনেন না। অনেক এমপির কাছে নারী নেত্রীরা বিভিন্ন তদবির, সুপারিশ ইত্যাদি নিয়ে প্রায়ই যেতেন, খুব আপ্যায়নও পেতেন। কিন্তু এখন নারী নেত্রীদের দর্শনে অরুচি দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগের এমপিদেরও।

সোমবার মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। বৈঠক শেষে মন্ত্রীরা একে একে সচিবালয়ে আসতে থাকেন। এইসময় তিনজন নারী নেত্রী একটি মন্ত্রণালয়ের লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বিশেষ দরকার ছিল। দরকারটা খুব সাদামাটা। একটি অনুষ্ঠানের জন্য তাঁরা মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাবেন, ব্যাস এইটুকুই। কিন্তু মন্ত্রী লিফটের গোঁড়ায় তিন নারী নেত্রীকে দেখে যেন ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন। মন্ত্রী অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। নেত্রীরা একটু এগিয়ে এসে সালাম দিলেন। তবে মন্ত্রী যেন এর উত্তরে রীতিমত আর্তনাদ করে উঠলেন, ‘প্লিজ, এখানে না!’ নারী নেতৃবৃন্দ তো রীতিমত অবাক। মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা পুলিশ প্রোটোকলের লোক নারী নেত্রীদেরকে চলে যেতে বললেন।

এসময় হতাশ তিন নারী নেত্রী দুঃখ করে বললেন, পাপিয়া কাণ্ডের পর তাঁদেরকে এরকম অপমান হতে হচ্ছে, তাঁদের মানসম্মান নিয়ে প্রশ্ন।

এসময় আওয়ামী লীগের একজন কর্মী বলেন যে, আপনারা সচিবালয়ে না আসলেই পারেন। সেসময় একজন ক্ষুদ্ধ্ব নারী নেত্রী বলেন, সচিবালয়ে আসবো না কেন? অন্যের পাপের ভার আমরা নিবো কেন? আর সচিবালয়ে না আসলে মন্ত্রীদের পাওয়া যাবে কোথায়?

একই দৃশ্য দেখা যায় আরেকটি মন্ত্রণালয়ে। সেই মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছে দুজন স্থানীয় পর্যায়ের নারী নেত্রী এসেছিলেন বদলি তদবিরের জন্য। কিন্তু সচিব জানিয়ে দেয় যে কোন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোন নারী নেত্রী মন্ত্রণালয়ে আসলে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিবেননা মন্ত্রী। এই ব্যাপারে তাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, কোন নারী নেত্রীর তদবরিরে কাগজ যেন গ্রহণ না করা হয়।

অন্যদিকে একজন সচিব মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে এসেই জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যদি কোন নারী নেত্রী আসেন, তাহলে তাদেরকে যেন কোনপ্রকার আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া না হয় এবং রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের কোনরকম তদবির গ্রহণ করা হবেনা।

সারাদিনই এরকম চিত্র ছিল সচিবালয়ে।

জানা গেছে যে, পাপিয়ার ঘটনার পর বিভিন্ন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে পাপিয়ার ছবি নিয়ে লজ্জায় পড়েছেন অনেক মন্ত্রী এবং এরপরেই প্রধানমন্ত্রী যার তার সাথে ছবি না তোলার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে এখন নারী নেতৃত্বকে সর্বত্র এড়িয়ে চলছেন মন্ত্রীরা।

শুধু মন্ত্রী বলে নয়, এমপিরাও এখন নারী কর্মী, নারী নেত্রী, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নারী নেতৃত্বের সঙ্গেও দেখা-সাক্ষাৎ করতে চাচ্ছেন না। বিভিন্ন এমপিরা তাঁদের নিজস্ব অফিস পরিচালনা করেন এবং এইসমস্ত অফিসে সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আবেদন, নিবেদন, সুপারিশ দেখা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সব এমপির পক্ষ থেকেই এইসব নারী নেত্রীদের এড়িয়ে যাবার প্রবণতা দেখা গেছে।

একাধিক এমপির সাথে বললে তাঁরা বলেন, ‘পাপিয়ার ঘটনার পর আমাদেরকে সতর্ক হতেই হচ্ছে, কারণ কার মনে কি আছে জানিনা। অপরিচিত কারও সাথে ছবি তুলে বিপদে পড়তে চাই না। কারণ কে কাকে কখন কিভাবে ফাসিয়ে দেয় তা বোঝা যায় না। এইজন্য খুব আতঙ্ক আছি।’

এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরে। এই আতঙ্কের কারণে যারা ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং নিষ্ঠাবান নারী কর্মী, তাঁরাও নানাভাবে প্রত্যেক্ষ-পরোক্ষভাবে অপমানিত হচ্ছে।

 

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close