আলোচিত

স্থানীয় কমিটি গঠনে কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পাপিয়া কেলেঙ্কারির পর আওয়ামী লীগ তার অঙ্গসহযোগি সংগঠনগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, স্থানীয় অঙ্গসহযোগি সংগঠনগুলো অর্থের বিনিময়ে এবং নানা রকম প্রভাবশালীদের তদবিরে যে কমিটিগুলো করছে, সেই কমিটিগুলোতে উপযুক্ত যাচাই বাছাই হচ্ছে না। এই যাচাই বাছাই না হওয়ার কারণে অনেক দুর্বৃত্ত, সুবিধাভোগী এবং অপকর্মকারীরা বিভিন্ন কমিটিতে ঢুকে পড়ছে। তারাই ওই কমিটির নাম পরিচয় ব্যবহার করে দুর্বৃত্তায়ন করছে, জড়িয়ে যাচ্ছে নানা রকম অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। যার সর্বশেষ উদারহণ হলো পাপিয়া।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন যে, সাধারণত অঙ্গ সহযোগি এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিরে উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার ক্ষেত্রে অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনেককেই স্বাধীনতা দেওয়া হয়। তারা একটি কমিটির প্রস্তাব করে যেটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ অনুমোদন করেন। জেলা উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটিগুলো হয় সেই কমিটিতে কেন্দ্রীয় কমিটির কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এই নিয়ন্ত্রণ না থাকার ফলেই এখানে অনেকেই ঢুকে পড়েন। অনেক স্বার্থান্বেষী, সুবিধাবাধী, সুযোগ সন্ধানীরা ঢুকে পড়েন। এই কমিটিগুলো গঠন করার ক্ষেত্রে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সংগঠনগুলোতে একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকে। তারাই এই কমিটিগুলো চূড়ান্ত করে। সে কারণেই যুব মহিলা লীগের নরসিংদী কমিটিতে পাপিয়া অন্তর্ভূক্ত হয়েছিলেন। শুধু যুব মহিলালীগ নয়, এর আগে ছাত্রলীগেও কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুবলীগের কমিটি বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। পাপিয়ার ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দর টনক নড়েছে এবং তারা নড়েচড়ে বসেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরকম ঢালাওভাবে কমিটির অনুমোদন বন্ধের ক্ষেত্রে দলের সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিগুলোতে থাকা নাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এইসব কমিটির গোয়েন্দা অনুসন্ধান করা হবে বলে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কমিটি গঠনে যদি বিলম্বও হয় অসুবিধা নেই, কিন্ত সুযোগসন্ধানী, সুবিধাভোগী এবং বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের যেন কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত না করা হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন কমিটিতে কার কি অবস্থা, কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এই সম্পর্কিত রিপোর্ট যত শীঘ্রই সম্ভব আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনির সম্পাদকরা, যারা বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা এ নিয়ে কাজ শুরু করছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও বলছে যে, পাপিয়ার এই ঘটনার পরে যুব মহিলা লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তারা কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় নরসিংদীর কমিটি করলেন এবং অন্যান্য কমিটিতে কারা কারা রয়েছে, তাদের ব্যাপারেও তালিকা চাওয়া হবে। শুধু মহিলা যুবলীগই নয়, অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে কারা রয়েছে তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close