গাজীপুর

গাজীপুরের সুখ-দুঃখ ১: ভয়াবহ যানজটে স্থবির টঙ্গী-গাজীপুর

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ভয়াবহ যানজটে স্থবির হয়ে থাকে গাজীপুর সিটি এলাকা। এখানে রয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম দুই উপজেলা শহর। একটি গাজীপুর সদর ও অন্যটি টঙ্গী এলাকা। এ শহরের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজটের। ফলে দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় রয়েছে মহাসড়কের দুই পাশের ৪০ লাখ বাসিন্দা।

এ ছাড়া এ পথে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রীর প্রতিনিয়ত অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনায় চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও টঙ্গি-নরসিংদী মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কের গাজীপুর অংশের যানজটের তীব্রতা বর্তমানে মাত্রাতিরিক্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। দিন-রাত প্রায় ২৪ ঘণ্টাই ব্যস্ততম এ সড়কের বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্ট এবং আশপাশের ভোগড়া বাইপাস মোড়, নাওজোড়, তেলিপাড়া, নগপাড়া ও সালনা ফ্লাইওভার পর্যন্ত যানজটের কবলে পড়ায় সেখানে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক স্থবিরতা বিরাজ করছে।

এ ছাড়াও জেলা শহরের শিববাড়ী-রেলক্রসিং, বোর্ডবাজার, চেরাগআলী, মিলগেট, স্টেশন রোড এবং কলেজ এলাকায়ও যানজট ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মহাসড়ক ও সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কোনো কোনো সময় এক ঘণ্টার রাস্তা অতিক্রম করতে ২/৩ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে যানবাহনের চাপ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় এ ট্রাফিক পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকায় যানজটের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূলত চলমান র‌্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণ কাজে ধীর গতি, মহাসড়ক ও সড়কগুলোর দুরবস্থা, ক্রমাগত যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়া, ফিটনেসবিহীন অবৈধ যানবাহন চলাচল, অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাথগুলো অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাওয়াসহ নানাবিধ কারণেই যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে সংশ্লিদের ধারণা।

এ ছাড়া চান্দনা-চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহগামী মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হলেও বাকি তিনটি মহাসড়ক-সড়কে চলছে রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। ফলে তিনটি মহাসড়ক ও সড়কে যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া টঙ্গী থেকে বাইপাস পর্যন্ত এলাকায় ড্রেন নির্মাণের জন্য মহাসড়কের উভয়পাশে গর্ত করে রাখা হয়। এ ছাড়া ফ্লাইওভার নির্মাণে পিলার স্থাপনের জন্য মাটি খুঁড়ে রাখায় মহাসড়কগুলো সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিআরটি কাজের ধীরগতির কারণে মহাসড়কগুলো দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। যানজট সৃষ্টির এটিও অন্যতম কারণ বলে ভুক্তভোগীদের ধারণা।

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল বলে খ্যাত গাজীপুরের অধিকাংশ শিল্প কারখানা এসব মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। ফলে এগুলোর পণ্যবাহী লরি, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বর্তমানে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে মহাসড়কের যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং ও রংসাইড দিয়ে গাড়ি চালানো। দেখা গেছে চান্দনা চৌরাস্তাকে ঘিরে যত্রতত্র বিভিন্ন যানবাহনের অবৈধ পার্কিং। এর ওপর রয়েছে ফুটপাথ দখল করে ভাসমান হকারদের বিভিন্ন পণ্য বিক্রির ধূম। চৌরাস্তার আশপাশে কোনো ফুটপাথই এখন দখলমুক্ত নেই। ফলে পথচারীরা ফুটপাথ ছেড়ে মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশেষ করে আশপাশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের সকালে কর্মস্থলে যাওয়া, দুপুরে খাবারের বিরতি ও বিকালে ছুটির সময় এদের ভিড়ে মহাসড়কগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। তখন যানবাহন চলাচলের গতি স্থবির হয়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় উল্টো পথে যানবাহন এলোপাতাড়িভাবে চলাচল করায় সৃষ্টি হয় যানজটের। এ সময় অপর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ দুরূহ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা মোমিন উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৪০ লাখ বাসিন্দার বসবাস। এ কারণে যানজটের এ অচলাবস্থা নিরসন করে অবিলম্বে সহজ যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা দরকার। নইলে যানজটের মাত্রা বাড়তে থাকবে।

জানতে চাইলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়কে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ধীর গতির কারণে কিছুটা যানজট লেগে থাকে। এ ছাড়া বিআরটি প্রকল্পের আওতায় মহাসড়ক উন্নতকরণ ও সংস্কার কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল না করতে পারায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ মহাসড়কে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার সময় তাদের প্রচ ভিড়ের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাথ থেকে দখলকারীদের উচ্ছেদ করে মহাসড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close