তথ্য প্রযুক্তিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মুজিব বর্ষে বিনামূল্যে ল্যান্ডফোন সংযোগ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ বিনামূল্যে ল্যান্ডফোন সংযোগ ও পুনঃসংযোগের ঘোষণা দিয়েছে। ওই ঘোষণার পর থেকে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) গ্রাহকদের আবেদন জমা পড়তে শুরু করে। বিটিসিএলের জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সংযোগ পেতে গ্রাহকদের বেশি আগ্রহ দেখা গেছে। পুরনো সংযোগ নতুন করে পেতে গ্রাহকেরও সাড়া কম। সব মিলিয়ে আবেদনের পরিমাণ সন্তোষজনক।

গত ২২ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ সিদ্ধান্ত দেন। তারপর থেকে দেওয়া শুরু হয় সংযোগ ও পুনঃসংযোগ। মুজিব বর্ষে বিটিসিএলের ‘ফ্রি টেলিকম’ সেবার উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বিটিসিএলের ল্যান্ডফোন সংযোগ বিনামূল্যে পাবেন সারাদেশের গ্রাহকরা। এর পাশাপাশি নতুন একটি অ্যাপও উদ্বোধন করা হয় ওই অনুষ্ঠানে যার মাধ্যমে বিটিসিএলের গ্রাহকরা ল্যান্ড ফোন সেবা নিয়ে তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। প্রতিদিনই নতুন সংযোগ পেতে আবেদন জমা পড়ছে। এছাড়া পুনঃসংযোগ নিতেও আগ্রহ দেখা গেছে ল্যান্ডফোন ব্যবহারকারীদের। তিনি বলেন, এমনিতেই আমরা ল্যান্ডফোন টু ল্যান্ডফোন কল মাসে ১৫০ টাকায় বেঁধে দিয়েছি প্যাকেজ হিসেবে। কোনও মাসিক লাইন রেন্ট নেই। অনেকে ভেবেছিলেন বিটিসিএলের ক্ষতি হবে। আসলে হয়েছে উল্টো। কারণ ল্যান্ডফোন থেকে প্রচুর কল যাচ্ছে মোবাইল ফোনে। এই চার্জ প্যাকেজের বাইরে। ফলে সেখান থেকে রাজস্ব ভাগাভাগি হবে। মন্ত্রী মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে বিটিসিএলের হারানো গৌরব ফিরবে, আরও বেশি লাভজনক হবে প্রতিষ্ঠানটি। মন্ত্রী জানান, পুরনো লাইনের সংযোগ তথা পুনঃসংযোগ বিনা খরচে নেওয়া যাবে। তবে কোনও বিল বকেয়া থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। বিল বকেয়া থাকলে পুনঃসংযোগ দেওয়া যাবে না।

মন্ত্রী বলেন, তিনটা প্রতিষ্ঠান- সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড, টেলিটক ও বিটিসিএলকে (ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কোম্পানি) লাইনে আনতে পেরেছি। টেশিসও (টেলিফোন শিল্প সংস্থা) লাইনে চলে আসবে। যদিও মন্ত্রী উল্লেখ করেন, টেশিস গত বছর লাভ করেছে। ফলে এটিও আমাদের লাইনে চলে আসবে। দোয়েল ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন দিয়ে টেশিস অনেক দূরে এগিয়ে যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান এক্সচেঞ্জে গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর নতুন সংযোগ পেতে ৯টি আবেদন জমা পড়ে। অন্যদিকে শেরে বাংলা নগর এক্সচেঞ্জে দুই সপ্তাহে নতুন সংযোগ পেতে ১৮০টি আবেদন জমা পড়ে। অন্যান্য এক্সচেঞ্জেও আবেদন জমা পড়ার হার এমন বলে জানা গেছে বিটিসিএল সূত্রে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে বিটিসিএলের গ্রাহক ছিল ১০ লাখের বেশি। ২০১১ সালে তা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৪৩ হাজারে। ২০১৬ সালে বিটিসিএলের গ্রাহক ছিল ৭ লাখ ১৬ হাজার। গত বছর ছিল ৬ লাখের মতো। গত ১০ বছরে বিটিসিএলের গ্রাহক কমেছে ৪ লাখের বেশি। দীর্ঘদিন টেলিফোন বিল বাকি থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং গ্রাহক বাসা বদলে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার পর পুরনো সংযোগ আর চালু না করায় টেলিফোন সংযোগ খালি হতে থাকে। অনেক গ্রাহক বিল পরিশোধ করে সংযোগ বন্ধ করেছেন বিটিসিএলের আঞ্চলিক অফিসগুলোতে। এর বিপরীতে নতুন টেলিফোন সংযোগ নেওয়ার আবেদনের সংখ্যা খুবই কম ছিল বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে এই চিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close