আলোচিতজাতীয়

ঢাকার ৭১ শতাংশ মানুষ বিষণ্ন

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আয়ের বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধনী-গরিবের আয়ের এই বিপুল বৈষম্য প্রভাব ফেলছে রাজধানীবাসীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর। রাজধানীর ৭১ শতাংশ মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে। আর ৬৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলন-২০২০-এর সমাপনী অধিবেশনে সোমবার এসব তথ্য তুলে ধরেন গবেষণাটির প্রধান গবেষক জুলফিকার আলী। অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, ঢাকা শহরের মানুষের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বায়ুদূষণ।

গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ঢাকা শহরের ১২ হাজার ৪৬৮ মানুষের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার ১০ শতাংশ ধনী মানুষের আয় পুরো শহরের বাসিন্দাদের মোট আয়ের ৪৪ শতাংশ। আর সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় মোট আয়ের ১ শতাংশের কম। রাজধানীর সাড়ে ৩ শতাংশ মানুষ এখনো তিন বেলা খেতে পায় না বলেও উঠে এসেছে গবেষণায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জুলফিকার আলী বলেন, ঢাকা শহরের এতগুলো সমস্যা একসঙ্গে প্রকট আকার ধারণ করার প্রধান কারণ হলো, এখানে প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। সিটি করপোরেশন শহরের ন্যূনতম নাগরিক সেবা দিতে পারছে না। ট্রাফিকব্যবস্থা কাজ করছে না। বায়ুদূষণের উৎস বন্ধ করা যাচ্ছে না। কিন্তু শহরে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ স্রোতের মতো আসছেই। ঢাকা শহরকে বাঁচাতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ঠিকমতো কাজ করে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে ধনী-গরিব সব মানুষের সেবা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

এসব সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য শহরের মানুষ নিয়মিতভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ও ওষুধ কেনা বাবদ মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে। শহরের অধিবাসীদের মোট মাসিক আয়ের ৯ শতাংশ খরচ হচ্ছে চিকিৎসা খাতে।

সম্মেলনে মুক্ত আলোচনা পর্বে সভাপতির বক্তব্যে নগর বিশেষজ্ঞ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে আমি এখানে এসে যে কথা বলছি, তাতে আমার গলা ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। এটাও ঢাকার বায়ুদূষণের একটি প্রভাব। এই শহরটিকে বাঁচাতে হলে আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।’

আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১০ বছরে রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছে বরিশাল বিভাগ থেকে। ঢাকায় আসা মানুষের প্রায় ২১ শতাংশ এসেছে বরিশাল বিভাগ থেকে। তবে গত পাঁচ বছরে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ এসেছে কিশোরগঞ্জ থেকে। এরপর আছে বরিশাল, ময়মনসিংহ ও ভোলা।

এ ব্যাপারে জুলফিকার আলী বলেন, মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষেরা ঢাকায় বেশি আসছে। যেমন ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঘরবাড়িছাড়া মানুষেরা বরিশাল থেকে ও কিশোরগঞ্জের হাওরবাসী বন্যায় আক্রান্ত হয়ে আসছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষ যাতে নিজ এলাকায়ই থাকতে পারে, সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close