গাজীপুর

‘বিপথগামী গোষ্ঠী বার বার বিচার ব্যবস্থার উপর আঘাত করে’: প্রধান বিচারপতি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, যারা বাংলাদেশের অস্তিত্ত্বকে বিশ্বাস করে না, ‘সেই বিপথগামী গোষ্ঠী বার বার বিচার ব্যবস্থার উপর আঘাত করে। তারা বিচারক হত্যা করে, আইনজীবী হত্যা করে। তারা জানেনা ব্যক্তিকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে হত্যা করা যায় না। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তাদের এ অপপ্রয়াস’।

২০০৫ সালে গাজীপুর আইনজীবি সমিতির কক্ষে জেএমবি কর্তৃক বোমা হামলায় শহীদ আইনজীবীদের স্মরণে শোকর‌্যালি, শোকসভা, মিলাদ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোববার বিকেলে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয় চত্বরে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা আইনজীবী সমিতি।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী অপশক্তির তৎপরতা কোনভাবেই যেন বিচারাঙ্গনকে কুলষিত করতে না পারে সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে’।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, আইনজীবীগণ বিচার ব্যবস্থার একটি অন্যতম অনুষঙ্গ। আইনজীবীগণ হচ্ছেন সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার, আর বিচারকরা হচ্ছেন বিচারের মূর্ত প্রতীক। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচারক ও আইনজীবীদেরকে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনজীবীগণ বিচার ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ। আইনজীবীদের সহায়তা ছাড়া বিচার ব্যবস্থা কিছুতেই অগ্রসর হতে পারে না।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর রাজনৈতিক অপশক্তির প্রভাব দেশে ধর্মান্ধ ও প্রতিক্রিয়াশীল বিভিন্ন চক্রের উদ্ভব ঘটে। নানা পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনতা বিরোধী ও জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী চক্রটি তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে থাকে। এ প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের মূল টার্গেট হলো বিচারাঙ্গন। দেশের বিচারঙ্গনের বিচারক ও আইনজীবীগণ বারবার এ ঘৃণিত চক্রের নির্মম ও মর্মাান্তিক হামলার শিকার হয়েছে। সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারক ও আইনজীবীগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এ অপশক্তিকে বিতাড়িত করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।

গাজীপুরের জেলা জজের বিচারক সংকটের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, গাজীপুর আদালতে এজলাশের সংকট না থাকলে এখানে আরও বিচারক প্রেরণ করা হবে, যাতে এখানে বিচার কাজ ত্বরান্বিত হয়।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. খালেদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধরণ সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্সের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম আবুল কাশেম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আইনজীবী আজমত উল্লাহ খান, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এসএম সফিকুল ইসলাম, গাজীপুর জজ আদালতের আইনজীবী ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, পিপি মো. হারিছ উদ্দিন আহমদ, আইনজী সুলতান উদ্দিন, জিপি মো. আমজাদ হোসেন বাবুল, আইনজীবী নুরুল আমিন, দেওয়ান আবুল কাশেম, জেবুন্নেছা মিনা প্রমূখ।

এর আগে রবিবার সকালে প্রথমে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোঃ খালেদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মনজুর মোর্শেদ প্রিন্সসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করেন এবং তাদের সহকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন। এ উপলক্ষে একটি শোকর‌্যালী বের করা হয়। দুপুরে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণে এক দোয়া ও খাবার বিতরণ করা হয়।

গাজীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. এ কে এম আবুল কাশেম, গাজীপুর আদালতের বিচারকবৃন্দ এবং গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ নিহত আইনজীবীদের জন্য স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

প্রসঙ্গত: ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর অ্যাডভোকেট বার সমিতির দুই নম্বর হলে শক্তিশালী দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আইনজীবীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে ওই হামলায় আত্মঘাতী জেএমবি সদস্য আজাদ ওরফে জিয়া ওরফে নাজির ওরফে নাহিদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুর বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন; আইনজীবী নুরুল হুদা, আনোয়ারুল আজম ও গোলাম ফারুক এবং চার বিচারপ্রার্থী।

এ ঘটনায় জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও আতাউর রহমান সানী, আত্মঘাতী হামলাকারী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন।

ওই ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার মধ্যে ঘটনার আট বছর পর একটি মামলার নিষ্পত্তি হয় ২০১৩ সালে ।ওই মামলায় অভিযুক্ত দশ জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন দ্রুত বিচার আদালত। বাকি দুটি মামলা ঢাকায় দ্রুত বিচার (বিশেষ) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close