আলোচিত

অভিযানের নামে রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেটের ‘মাস্তানি’?

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : আইন ও সাালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর অফিসে গিয়ে ‘অভিযানের নামে’ রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ‘মাস্তানি’ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী। তবে রাজউকের ম্যাজিস্ট্রেটের দাবি, তিনি আইন মোতাবেক কাজ করেছেন।

আসকের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেছেন, ‘‘আমরা এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিরুদ্ধে কথা বলি বলেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসক অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে।’’

গত ১৪ নভেম্বর রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তারের নেতৃত্বে আসকের লালমাটিয়া অফিসে অভিযান চালায়। লালমাটিয়ার ওই পাঁচতলা ভবনটির দু’টি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে গত দুই বছর ধরে অফিস পরিচালনা করে আসছে আসক।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমারত নির্মাণ আইন ৩৫২-এর ৩(ক) ধারায় আসককে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের মধ্যে অসিফ ছাড়ার নির্দেশ দেন।

আসকের দাবি, ‘‘ওই আইন আসকের জন্য প্রযোজ্য নয়, কারণ, আসক কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি অলাভজনক, সেবামূলক একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান। এটা জানানোর পরও ম্যাজিষ্ট্রেট তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। জরিমানা আদায় করে অফিস ছাড়ার মুচলেকা নেন। কিন্তু আদেশের কোনো কপি দেননি তখন।’’

ওই অভিযান ও আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে এরই মধ্যে আসকের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। দু’-এক দিনের মধ্যে শুনানি হতে পারে।

আসকের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘রিটে আমরা প্রথমত, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকটি ধারা বাতিল চেয়েছি। দ্বিতীয়ত, ওই দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের আচরন ও আদেশের প্রতিকার চেয়েছি। এবং জরিমানার টাকা ফেরত ও অফিস যাতে থাকে সেই আবেদন করেছি।’’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘ওইদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসকের অফিসে গিয়ে মাস্তানি করেছেন। গুন্ডার মতো আচরণ করেছেন। আমাদের মনে হয়েছে উদ্দেশ্যমূলভাবে আসক অফিসে অভিযান চালানো হয়। আসককে সিঙ্গেল আউট করা হয়েছে। ওই এলাকায় আরো অনেক অফিস থাকলেও সেখানে অভিযান চালানো হয়নি। অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিল আসক অফিসকে ওখান থেকে তুলে দেয়া। সে উদ্দেশ্য না থাকলে আসককে নোটিশ করা যেতো। কিন্তু তা না করে হঠাৎ গিয়েই ‘এই আপনাদের কী কী কাগজপত্র আছে দেখান’ বলে কোনো কথা না শুনেই জরিমানা করা হয়। দুই মাসের মধ্যে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আইনে কোথাও বলা নাই আবাসিক এলাকায় অফিস থাকতে পারবে না। বলা হয়েছে বাণিজ্যিক অফিস বা শিল্প কারখানা থাকতে পারবে না।’’

এ প্রসঙ্গে জেড আই খান পান্না বলেন, ‘‘ওইদিন প্রথমে আমাদের অফিসকে পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। কিন্তু ম্যাজিষ্ট্রেট চলে যান। আমাদের স্টাফদের তখন বের হতে দেয়া হয়নি। এরপর সন্ধ্যার পর আবার ম্যাজিস্ট্রেট এসে দুর্ব্যবহার করে।  আমাদের কোনো কথা না শুনেই দুই লাখ টাকা জরিমানা করে। আমরা কি টাকা নিয়ে বসে থাকি? আমাদের কোনো সময়ও দেয়া হয়নি। এর কারণ কী? নিশ্চয়ই এর উদ্দেশ্য আছে। আমরা এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং-এর বিরুদ্ধে কথা বলি, বিবৃতি দিই৷ সে কারণেই এই অভিযান।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘লালমাটয়ায় তো অনেক বাণিজ্যিক অফিস আছে। সেখানে কেন অভিযান হয় না? অথচ একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই আচরন! আমাদের সাখে যে আচরণ করা হয়েছে তা কোনো আদালতের আচরণ নয়।’’

রাজউকের অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার আসকের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘ওই দিনের অভিযান ছিল আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ। ওইদিন আমরা লালমাটিয়া এলাকায় আরো কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালিয়েছি৷ জরিমানা করেছি। আসককে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়নি। আর আসককে জরিমানা এবং ২ মাসের মধ্যে অফিস সরানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে আবাসিক ভবনের অনাবাসিক ব্যবহার না করার আইনে৷ আইনে আবাসিক ভবনের অনাবাসিক ব্যবহার করা যাবেনা বলা আছে।’’

তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা কিছু কিছু বাড়ি বা এলাকায় অভিযান চালা।৷ সব এলাকায় নয়। কারণ, আমাদের উদ্দেশ্য হলো একটু একটু করে সবাইকে সচেতন করা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সব নিয়ম মেনেই অভিযান চালিয়েছি। আর আৎক্ষণিকভাবে আমরা আদেশের কপি না দেয়ার কারণ হলো, আমাদের অনেক লেখা বাকি থাকে। পরে তারা আবেদন করে কপি নিয়েছেন।’

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close