গাজীপুর

পেঁয়াজের বিকল্প মসলা ‘চিভ’ উদ্ভাবন

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পেঁয়াজের বিকল্প মসলা ফসল উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনটিটিউটের (বারি) একদল বিজ্ঞানী। বিকল্প মসলাটির নাম ‘চিভ’।

চিভ (Allium tuberosum) একটি বহুবর্ষজীবী মসলা ফসল। হইা অ্যামারাইলিডেসি (Amaryllidaceae) পরিবারের অর্ন্তভুক্ত। এর পাতা লিনিয়ার আকৃতির, ফ্লাট, পাতার কিনারা মসৃণ, বাল্ব লম্বা আকৃতির। ফুলের রং সাদা ও বেগুনি বর্ণের মিশেলে।

বারি সূত্রে জানা গেছে, চিভের চাষ সারা বছরই করা যায়। চিভ-এ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও খনিজ পদার্থ বিদ্যামান। রয়েছে চিভ এ ক্যানসার প্রতিরোধী গুণাগুণও। সালাত তৈরিসহ বিভিন্ন চাইনিজ ডিসে ব্যবহার করা যায়। চিভের পাতা, কন্দ ও অপরিপক্ক ফুল সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চিভ হজমেও সাহায্য করে।

চিভের উৎপত্তিস্থল সাইবেরিয়ান, মঙ্গোলিয়ান, নর্থ চাইনা অঞ্চল। বাংলাদেশে সিলেট অঞ্চলে তুলামূলকভাবে চাষাবাদ বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী (দুর্গাপুর ও তাহেরপুর) মাগুরা, বগুড়া, লালমনিরহাট ইত্যাদি অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে সারা বছর চিভ চাষ করা সম্ভব। এ জাতের গাছের উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার, পাতার দৈর্ঘ্য ২৩ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার, বাল্ব লম্বাকৃতির, বাল্বের দৈর্ঘ্য ১.০ থেকে ১.৪৫ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। সেচ ও পানি নিস্কাশনের সুবিধাযুক্ত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ বেলে দোআঁশ মাটি চিভ চাষের জন্য উপযোগী। ১৩-২৫ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা চিভ চাষের জন্য উপযোগী। চারা লাগানো থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত ৬৫ থেকে ৭০ দিন সময় লাগে।

জাতটি পোকামাকড় ও রোগ সহনশীল। এ ফসলে রোগের আক্রমণ খুব কম হয়। তবে জমিতে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। এছাড়া পার্পল লিফ ব্লচ (Purple leaf blotch) নামক রোগের আক্রমণ হতে পারে। আন্তঃফসল হিসেবে চাষ করার মাধ্যমে কলার পানামা রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

চারা লাগানোর ৬৫-৭০ দিন পর থেকে ফসল সংগ্রহ করা যায়। গাছের গোড়া থেকে ২-৩ ইঞ্চি উপরে পাতা কেটে অথবা পুরো গাছ উঠিয়ে ফসল সংগ্রহ করা যায়। বছরে ৫-৬ বার ফসল সংগ্রহ করা যায়। পাতা ও গাছ সহ প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন ফলন পাওয়া যায়।

বারির উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নূরে আলম চৌধুরী জানান, বিবিএস (২০১৭) এর তথ্য মতে আমাদের দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭.৩৫ লাখ মেট্রিক টন, চাহিদা প্রায় ২২ লাখ মেট্রিক টন। এখনো প্রায় ৪.৬৫ লাখ মেট্রিক টন ঘাটতি রয়েছে। চিভ পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব এবং সারা বছর চাষ করা যায়। এর প্রসার পেঁয়াজের ঘাটতি অনেকটা মেটাতে উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে মসলা গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীগণ চেষ্টা করে আসছে। বেশ কয়েকটি লাইনের উপর গবেষণা চালিয়ে বারি চিভ-১ নামে একটি উচ্চ ফলন শীল জাত উদ্ভাবন করেছে, যা সারা বছর চাষ করা সম্ভব। জাতটি ২০১৭ সালে অবমুক্ত হয়।

 

সূত্র: রাইজিংবিডি 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close