গাজীপুর

কালীগঞ্জে চার কোম্পানির দখলে ‘শীতলক্ষ্যার ১৫ একর জমি’, উদ্ধারের দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ!

রেজাউল সরকার (আঁধার), নিজস্ব প্রতিনিধি : ক্রমবর্ধমান হারে কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী দখল-দূষণের শিকার হচ্ছে। পাশিপাশি নদী তীরবর্তী ভূমি, নদীর চর এবং নদী দখল করে গড়ে উঠা কল-কারখানার রাসায়নিক দ্রব্য ও বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশ জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে শীতলক্ষ্যা নদী। এর মধ্যে প্রায় ১৫ একর রেকর্ডভুক্ত সিকস্তি (নদী তীরবর্তী ভূমি) এবং নদীর চর দখল করেছে চার কোম্পানি মিলে। এর বাহিরে আরো প্রায় ৮ একর নদী বরাট করেছে কোম্পানিগুলো।

দখলদারদের মধ্যে রয়েছে, ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ লিমিটেড এবং সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেড। অপর দিকে নদী দখলে থাকার পরও রহস্যজনক কারণে তালিকায় নেই আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড এর নাম।

স্থানীয়দের জীবনধারণসহ সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে শীতলক্ষ্যা। আজো শুধু শীতলক্ষ্যা নদীকে কেন্দ্র করেই অসংখ্য পরিবারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। মানবদেহে যেমন শিরা-ধমনির গুরুত্ব অসীম তেমনি জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতেও নদীর গুরুত্ব অত্যধিক। অথচ দিনে দিনে নদীর বেশির ভাগ অংশই অসৎ লোকজন দখল-দূষণ করে যাচ্ছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে নদীরক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তৎপর হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা রয়েছে দখল-দূষণকারীদের কবল থেকে নদীকে রক্ষা করার জন্য।

কিন্তু ‘দখলদারদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করে ‘ফাইল বন্ধ’ করাই যেন স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচচ দায়িত্ব! দখলারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া যেন তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পরে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের’।

কারণ সরকারি হিসেবে শীতলক্ষ্যা নদীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের দখলের বিবরণী রয়েছে। তবু শীতলক্ষ্যা নদীকে দখল মুক্ত করার জন্য নেওয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ?

যদিও শীতলক্ষ্যা সম্পর্কে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে ‘রূপার মত স্বচ্ছ জলরাশিকে যে নদী ধারণ করে আছে তাই শীতলক্ষা। উৎসমুখ ব্রক্ষ্মপুত্র নদের দক্ষিন তীরস্থ কাপাসিয়া উপজেলার টোক নয়ন বাজারের নিকট খারসাদী (গার নদী) নামক স্থান এরপর একডালা হয়ে কালীগঞ্জের সীমানায় পড়েছে। কালীগঞ্জের পূর্ব দক্ষিণ সীমাত্ম শেষ করে মোক্তারপুর, জামালপুর, বাহাদুরসাদী, কালীগঞ্জ পৌরসভা, তুমুলিয়া ইউনিয়নের পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিন প্রবাহিত হয়েছে। এক সময় এর প্রবাহ মধ্যগতির রূপে পরিগ্রহ করেছে। সূতী, বালু, চিলাই ইত্যাদি শীতলক্ষ্যার উপনদী। পূর্বে এই নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে কালীগঞ্জ এবং নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রচুর শিল্প কারখানা গড়ে উঠায় শিল্পবর্জের কারণে মাছ কম পাওয়া যায়’।

সম্প্রতি শীতলক্ষ্যা নদীর দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) মোহাম্মদ জুবের আলম।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো ওই প্রতিবেদন উল্লেখ্য করা হয়েছে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় ‘ভরসা গ্রুপ লিমিটেড’ অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে একটি এঙ্গেল হেড, সাতটি সেমি পাকা বিল্ডিং, তিনটি টিনসেড ঘড় এবং একটি ইটিপি প্লান্ট নির্মাণ করেছে।

এছাড়া একই মৌজায় ‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ একটি এঙ্গেল সেড, দুইটি সেমি পাকা বিল্ডিং, একটি পাকা বিল্ডিং এর অংশ বিশেষ এবং দুইটি টিন সেড বিল্ডিং নির্মাণ করেছে।

এবং চরমিরপুর মৌজায় ‘সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে’ একটি সেমি পাকা বিল্ডিং, চারটি বিল্ডিং নির্মাণ এবং নদীতে রয়েছে তাঁদের চারটি ক্রেন ।

কিন্তু প্রতিবেদনে দখলকৃত নদী এবং নদীর জমির পরিমাণ এবং পরিবেশ দূষণের বিষয়ে কোন তথ্য উল্লেখ নেই!

এছাড়াও বালিগাঁও মৌজার আর.এস নকশার ২ নং সিটভুক্ত সরকারি ১ নং সহ বিভিন্ন খতিয়ানে থাকা সিকস্তি (নদী তীরবর্তী ভূমি) জমি ও নদী দখলের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নদী দখলমুক্ত করার পাশাপাশি জরিমানা করা হয়ে থাকলেও রহস্যজনক কারণে ‘আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড’ এর নাম নেই নদী দখলদারদের তালিকায়।

গজারী গাছ দিয়ে পাইলিং করে শীতলক্ষ্যা নদী দখলের দৃশ্য আবুল খায়ের গ্রুপের (ফাইল ফটো )।

২০১৮ সালের ৩ মার্চে দিনে দুপুরে অবৈধ গজারী গাছের পাইলিং দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী দখলের অভিযোগ উঠেছিল আবুল খায়ের গ্রুপের বিরুদ্ধে। এরপর ওইদিনই সরকারী সম্পদ দখল ও অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে তাদের কাজ বন্ধ করেছিলেন তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ হোসেন।

এছাড়াও চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শীতলক্ষ্যা নদীর কালীগঞ্জ অংশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নদীর জমিতে স্থাপিত আবুল খায়ের গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছিল বিআইডব্লিউটিএ। তবুও দখলদারের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হয়েছে ‘আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড’এর।

সরেজমিন এবং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আবেদন করে পাওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও মৌজার অনুমানিক প্রায ৮০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে আবুল খায়ের গ্রুপ লিমিটেড এর কয়েকটি ফ্যাক্টরি। এর মধ্যে রয়েছে ১ নং খতিয়ানভুক্ত আর এস ২০৮৭ নং দাগে ৪৫ শতাংশ একটি হালটসহ প্রায় ৩ একর সিকস্তি জমি যা ‘সম্পূর্ণ সরকারী সম্পত্তি’ কিন্তু তাদের দখলে। এছাড়াও প্রায় আরো ১ একর নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি।

গুগুল ম্যাপে ধারণ করা আবুল খায়ের গ্রুপ এর নদী দখলের চিত্র।

এছাড়া কোম্পানির নামে মাত্র ০৬ একর ০১৪৪ শতাংশ জমি নামজারি করে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে আবুল খায়ের গ্রুপ। সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করার উদ্দেশেই তাদের সকল জমি নামজারি করছে না কোম্পানিটি। এছাড়াও সকল জমি কোম্পানিটির নিজস্ব না হওয়ায় এবং ফসলি, সরকারি ও নদীর জমি থাকায় নামজারি করাও আইন অনুযায়ী বৈধ নয় বলে জানান ভূমি সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় অনুমানিক প্রায ১৫ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ’।

গুগুল ম্যাপে ধারণ করা ‘ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ’ এর নদী দখলের চিত্র।

এর মধ্যে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় ৩ একর জমি দখল করে রেখেছে কোম্পানিটি। যার বেশিরভাগই ১ নং খতিয়ানভুক্ত সিকস্তি ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ০১ একর নদী দখল করে বরাট করেছে কোম্পানিটি। ভরসা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ আনুমানিক প্রায় ৩ একর জমি নামজারি করে অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার চরমিরপুর মৌজায় অনুমানিক প্রায ৮০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘সেভেন রিংস সিমেন্ট’ ফ্যাক্টরি। কিন্তু কোম্পানির নামে মাত্র ২৭ একর ৪৭৭৮ শতাংশ জমি নামজারি করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোম্পানিটি।

সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করে রেখেছে প্রায় ৪ একর। যার বেশিরভাগই ‘সিকস্তি’ ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে।

এছাড়াও আরো প্রায় ২ একর নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি এবং ‘খ’ তফসিল গেজেটভুক্ত প্রায় ৮ একর অর্পিত সম্পত্তি দখল করে রেখেছে ‘সেভেন রিং সিমেন্ট লিমিটেডে’।

এভাবেই নদীতে জাহাজ রেখে নদীর মধ্যে জটলার সৃৃৃষ্টি করে রাখে সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরি।

এবং সার্বক্ষণিক নদীতে জাহাজ রেখে নদীর মধ্যে জটলার সৃৃৃষ্টি করে রাখে সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। এতে করে নদী দিয়ে চলাচলকারী নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ‘সেভেন রিংস সিমেন্ট’ ফ্যাক্টরি বিআইডব্লিউটি এর কাছ থেকে একটি নৌ-জেটির অনুমোদন নিয়ে শত শত জাহাজ লোড-অনলোড করছে নদী দখল করে।

এছাড়াও ওই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে না সিমেন্ট ফ্যাক্টরির প্রতিনিয়ত বায়ু দূষণ হচ্ছে কারণে।

গুগুল ম্যাপে ধারণ করা সেভেন রিংস সিমেন্ট ফ্যাক্টরির নদী দখলের চিত্র।

অপরদিকে ‘ক’ তফসিল গেজেটভুক্ত চরমিরপুর মৌজার অর্পিত সম্পত্তির (কেস নথি নং ১৪৮/৬৭ এবং ১৬১/৭৫) ২ একর ৬১ শতাংশ জমি লীজ দেওয়া হয়েছে কোম্পানিটির নামে। কিন্তু সর্বশেষ ১৪২৫ বাংলা সালে লীজ মানি পরিশোধ করা হলেও এখনো লিজ বহাল রয়েছে।

এবং কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও মৌজায় অনুমানিক প্রায ৭০ একর ‘ফসলি’ জমিতে গড়ে উঠেছে ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’। কিন্তু কোম্পানিটির নামে মাত্র ১৯ একর ৫৮১১ শতাংশ জমি নামজারি করেই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

গুগুল ম্যাপে ধারণ করা ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’এর নদী দখলের চিত্র।

‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ এর দখলে রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রায় ২ একর জমি। যার সবটুকুই ১ নং খতিয়ানভুক্ত ‘সিকস্তি’ ভূমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে এবং তাদের দখলে রয়েছে ৬১ শতাংশ গোপাট এবং শ্মশানের ৮ শতাংশ জমি। আরো প্রায় ২ একর এর বেশি নদী দখল করেও বরাট করেছে কোম্পানিটি।

এছাড়াও ‘প্রাণ-আরএফএল লিমিটেড’ ‘খ’ তফসিল গেজেটভুক্ত প্রায় তিন একর অর্পিত সম্পত্তি দখলে করেছে।

আর শ্মশানের ৮ শতাংশ জমি দখল করে তার পরিবর্তে অন্য স্থানে একটি শ্মশান করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এবং ‘ক’ তফসিল গেজেটভুক্ত মূলগাঁও মৌজার অর্পিত সম্পত্তি (কেস নথি নং ০৪/৮০) ০.৪৩ শতাংশ জমি লীজ দেওয়া হয়েছে কোম্পানিটির নামে। যা ১৪২৬ বাংলা সাল পর্যন্ত লীজ মানি পরিশোধ করা হয়েছে।

সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’ এর বিরুদ্ধে একটি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করা হয়েছিল (উচ্ছেদ মামলা নং-২৩/২০১০) প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

এছাড়াও অবৈধভাবে ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’ এর দখলে থাকা ২ একর ৩৬ শতাংশ সরকারি খাস জমি ছাড়ার জন্য ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর একটি নোটিশ পাঠিয়েছিল তৎকালীন কালীগঞ্জ উপজেলা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার।

অপরদিকে একই উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের একুতা মৌজায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই অনুমানিক প্রায় দু’শ বিঘা ‘ফসলি জমি’ বরাট করেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানির নামে ৭৫ বিঘা ‘ফসলি জমি’ নামজারি করে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে প্রাণ আরএফএল গ্রুপের ‘কালীগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ নামে ইকোনমিক পার্কে তৈরির জন্য।

গুগুল ম্যাপে ধারণ করা একুতা মৌজায় ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’এর ফসলি জমি এবং নদী দখলের চিত্র।

এর মধ্যে রয়েছে ১ নং খতিয়ানভুক্ত সরকারী সম্পত্তির আর এস ৫৪৯ এবং ৬৪৯ নং দাগে গোপাট এবং হালট ৫০ শতাংশ। এর বাইরেও ১ নং খতিয়ানভুক্ত বালুচরসহ আরো ০১ একর বিভিন্ন শ্রেণির জমি।

এছাড়াও বিভিন্ন খতিয়ানভুক্ত আর.এস রেকর্ডীয় ৩ একর ১৭ শতাংশ ‘বালুচর’সহ আরো ২ একর নদী দখল করে ভরাট করেছে কোম্পানিটি।

একুতা মৌজায় ‘প্রাণ-আর.এফ.এল গ্রুপ’ এভাবেই বালু বরাট করে ফসলি জমি এবং নদী দখল করেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার তৎকালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সোহাগ হোসেন(১৭২৬৫) গত ১২ ফেবরুয়ারি ২০১৯ কালীগঞ্জ থেকে অবমুক্ত হন। অপর দিকে নামাজারী ও জমাভাগ নথি নং ৬১৯,৬২০,৬২১,৬২২,৬২৩/১৮-১৯ অনুমোদন করা হয়েছে ওই একই তারিখে ‘কালীগঞ্জ ইকোনমিক জোন লিমিটেড’ এর নামে ফসলি জমিতে। ‘যা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত বলে ধারণা করা হচ্ছে’।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী শীতলক্ষ্যা নদী বা লক্ষ্ম্যা নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নরসিংদীর পলাশ উপজেলা, গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলা, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ১০৮ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২২৮ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক শীতলক্ষ্যা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৫৫।

এই নদীটি ব্রহ্মপুত্র নদের একটি উপনদী। এর গতিপথের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পরে নারায়ণগঞ্জের পূর্ব দিয়ে কালাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। এর উপরিভাগের একটি অংশ কাপাসিয়ায় বানর নদী নামে পরিচিত। নদীটি প্রায় ১১ কিলোমিটার লম্বা এবং নারায়ণগঞ্জের নিকটে এর সর্বোচ্চ প্রস্থ প্রায় ৩০০ মিটার। এর সর্বোচ্চ প্রবাহ ঢাকার ডেমরার কাছে ২,৬০০ কিউসেক। সারা বছর ধরে এর নাব্যতা বজায় থাকে।

কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি-ল্যান্ড) মোহাম্মদ জুবের আলম বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়াও তিনি আরো জানান, সকল দখলদারদের বিরুদ্ধেই পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, যারা নদী দখল করেছে যে সকল প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে আমরা বলেছি দলকৃতস্থান থেকে স্থাপনা সড়িয়ে ফেলেতে। নদী দখলদারদের তালিকা থেকে অনেকে বাদ পড়েছে. যারা বাদ পড়েছে তাদের তালিকা আবার প্রকাশিত হবে।

দখলদারদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে আসা ওই ঐতিহাসিক রায়ে বলা হয়েছে, নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে সরকারকে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে হবে।

রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়-
# দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের এলাকার নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয়ের অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের নামের তালিকা জনসম্মুখে ও পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।
# নদী বা জলাশয় দখলকারী বা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীরা ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘অযোগ্য’ বিবেচিত হবেন। ঋণ দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখার যথাযথ ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
# জাতীয় বা স্থানীয়- কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ থাকলে তাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। সে ব্যপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
# দেশের সকল সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে এক ঘণ্টা ‘নদী রক্ষা, সুরক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ’, নদ-নদীর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।
# দেশের সকল শিল্প কারখানার সকল শ্রমিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে প্রতি দুই মাসে এক দিন এক ঘণ্টা সচেতনতামূলক সভা বা বৈঠক করতে হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।
# দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও বিভাগে প্রতি তিন মাসে একবার নদী বিষয়ে দিনব্যাপী সভা-সমাবেশ, সেমিনার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close