মুক্তমত

নজরদারির অভাবে মুছে যাচ্ছে শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিমের স্মৃতি

মোঃ মাইন উদ্দিন : রক্তঝরা শোকের মাস আগস্ট। এই মাস নিয়ে হাজার বছর লিখলেও কষ্ট শেষ হবে না, ক্লান্তিও আসবে না মনে। তাই আজ একজন শহীদ সৈনিককে নিয়ে কিছু লিখতে চেষ্টা করছি।

গত ২৫ আগস্ট ২০১৯ ছিল শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিমের ১৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী।

বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ইউনোসি (আইভরি কোষ্ট) এ- যোগদান করার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করেছিলেন শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিম।

আইভরি কোষ্ট যাওয়ার পর দেশটির বিমান বন্দর থেকে ২৫ আগস্ট আবিদজানে তাঁর নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় সে। মৃত্যু কালে আব্দুল হালিমের বয়স হয়েছিল ২৯ বছর।

শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিম ১৯৭৭ সালের ১লা নভেম্বর কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের বড় ছয়সূতী গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ মানিক চাঁন মিয়া ও মাতার নাম মোছাঃ রাবেয়া বেগম।

শহীদ আব্দুল হালিম ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্টিলারি রেজিমেন্টে যোগদান করেন। তাঁর প্রশিক্ষন সমাপ্তির পর ২৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারিতে কর্মরত ছিলেন। এখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে ১৮ জন বীর সেনানির (ব্যানব্যাট -৯) এর সাথে আইভরি কোস্টে যোগদান করতে যায়। সেখান থেকে ২৫ আগস্ট তাঁর নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা যায়।

মৃত্যুকলে তিনি মা, বাবা, স্ত্রী, ২ শিশু পুত্র, ৩ ভাই ও ৪ বোন সহ অংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। ভাই বোনদের মাঝে আব্দুল হালিম-ই ছিলেন সবার বড়।

স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল হালিমের মৃত্যুর পর ২০০৬ সালে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ভৈরব-মময়মনসিংহ আঞ্চলিকের ছয়সূতী বাসষ্ট্যান্ডের দক্ষিন পাশ থেকে শহীদ আব্দুল হালিমের বাড়ী (কবর) পর্যন্ত একটি রাস্তা “শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিম সড়ক” নামকরণ করে ততকালীন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে একটি পলক নির্মাণ করেছিলেন। যে পলকটি এখন দায়িত্বশীলদের নজরদারির অভাবে ভেঙে গেছে।

স্থানীয়রা বলছে পলকটি ভেঙে যাওয়ায় মুছে যাচ্ছে শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিমের স্মৃতি।

আব্দল হালিমের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ভেঙেপড়া এই পলকটি ছাড়া কুলিয়ারচরে এই শহীদের আর কোন স্মৃতি চিহৃ নেই।

আব্দুল হালিমের ১৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ২০১৯ উপলক্ষ্যে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসনের নিকট শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিমের স্মৃতি রক্ষার্থে উক্ত রাস্তাটির উপর একটি তোরণ নির্মাণ করার জোর দাবী জানিয়েছে হালিমের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী।

আব্দুল হালিমের শশুর মিজানুর রহমান ফারুক বলেন, শহীদ আব্দুল হালিম শুধু আমাদের গর্ব নয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্ব ও বাংলাদেশের গর্ব।

তিনি বলেন, শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিম স্মৃতি পলকটি ভেঙে পড়ার পর আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানের নিকট একাধিকবার জানানোর পরও উনি কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

সর্বশেষ আমরা আশাবাদী শহীদ আব্দুল হালিমের স্মৃতি রক্ষার্থে কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন “শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিম সড়ক” এর উপর অচিরেই একটি তোরণ নির্মাণ করবেন। যা না হলে চিরতরে মুছে যাবে শহীদ সৈনিক আব্দুল হালিমের স্মৃতি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close