আলোচিত

ইতিহাসের ভয়ংকর সব মহামারী রোগ

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন আগামী ২০-৩০ বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে একটি রোগ মহামারী আকার ধারণ করবে, যাতে মানব জাতি বড় এক সংকটে পড়তে পারে। চলতি বছরে এশিয়ার কয়েকটি দেশে এডিস মশা বাহিত রোগ ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। ফিলিপাইনে এ পর্যন্ত ৭২০ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ডেঙ্গু। সরকারি হিসেবে ৫০ জনের মতো নিহত হয়েছে গত কয়েকদিনে। এ পরিস্থিতিতে ইতিহাসে এর আগে যেসব রোগ মহামারী রূপ নিয়েছিল সেগুলো সম্পর্কে জানি চলুন।

৪৩০ খ্রিস্টপূর্ব: স্মলপক্স রোগটি ভেরিওলা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রামক এই রোগটি একজন মানুষের ত্বকের সাথে আরেকজনের স্পর্শে ছড়ায়। এমনকি বাতাসের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়ায়। এই স্মলপক্সের কারণে খ্রিস্টপূর্ব ৪৩০ এ গ্রিসের এথেন্সে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়, যা ছিল ওই নগরের ২০ শতাংশ মানুষ।

৫৪১ খ্রিস্টাব্দ: পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের জাস্টিনিয়ানে ৫৪১ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া বাহিত রোগ প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই শ বছর এই রোগ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ছড়ায়। ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর মহামারী বলা হয় একে। দুই শ বছরে এই রোগটিতে মারা যায় প্রায় ১০ কোটি মানুষ।

১৩৩৪ সাল: গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন হিসেবে স্বীকৃত ১৩৩৪ সালের প্লেগ আসলে ছড়ায় চীন থেকে। এরপর ইতালির ফ্লোরেন্স শহরেই ছয় মাসে প্লেগে মারা যায় ৯০ হাজার মানুষ। পুরো ইউরোপ জুড়ে মারা যায় আড়াই কোটি মানুষ।

১৩৪৬ সাল: এশিয়ায় ১৩৪৬ সালে প্লেগ মহামারী আকার ধারণ করে। ইতিহাসে তা দ্য ব্ল্যাক প্লেগ হিসেবে বিবেচিত। এই প্লেগ রোগ পরে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপের ৬০ শতাংশ মানুষ মারা যায়। চার বছরে এশিয়া ও ইউরোপে মারা যায় ৫ কোটি মানুষ।

১৫১৯ সাল: বর্তমান মেক্সিকোতে ১৫১৯ সালে স্মলপক্স ছড়িয়ে পড়লে দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষ।

১৬৩৩ সাল: ফ্রান্স, গ্রেট বৃটেন ও নেদারল্যান্ডসবাসীদের মাধ্যমে ১৬৩৩ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে স্পলপক্স ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ২ কোটি মানুষ মারা গেছে বলে দাবি করেন ইতিহাসবিদরা।

১৭৯৩ সাল: আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ায় ১৭৯৩ সালে ইয়েলো ফিভার মহামারী আকার ধারণ করে। এতে নগরের ১০ ভাগের এক ভাগ, প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ মারা যায়।

১৮৬০ সাল: আধুনিক যুগে প্লেগ ছড়ায় ১৮৬০ সালে। এতে চীন, ভারত ও হংকংয়ে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। পরে ১৮৯০ এর দশকে প্লেগের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হয়।

১৯১০ সাল: বিশ শতকের সবচেয়ে বড় প্লেগ মহামারী দেখা দেয় ১৯১০ সালে। চীনের মাঞ্চুরিয়ায় দুই বছরে মারা যায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।

১৯১৮ সাল: বিশ্বজুড়ে ১৯১৮ সালে গ্রেট ফ্লু মহামারী রূপ নেয়। এতে দুই বছরে সারা বিশ্বে মারা যায় ৩ কোটির বেশি মানুষ।

১৯৫২ সাল: আমেরিকায় ১৯৫২ সালে পোলিওতে আক্রান্ত হয় প্রায় ৬০ হাজার শিশু, এতে তিন হাজারের বেশি মারা যায়।

১৯৮৪ সাল: প্রথম এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয় ১৯৮৪ সালে। এই ভাইরাসের কারণে এইডস রোগে সে বছরই আমেরিকায় মারা যায় ৫,৫০০ জন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর এ পর্যন্ত এইডসে মারা গেছে আড়াই কোটির বেশি।

২০০৯ সাল: বিশ্বজুড়ে ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু বা এইচ ওয়ান এন ওয়ান ফ্লুতে ১৮,৫০০ জন মারা গেছে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লাখ ৭৫ হাজার বলেও ধারণা করা হয়।

২০১০ সাল: হাইতিতে ২০১০ সালে ভয়ংকর এক ভূমিকম্পের পর কলেরা মহামারী রূপ নিলে ১০ হাজার মানুষ মারা যায়।

২০১২ সাল: বিশ্বজুড়ে ২০১২ সালে ভাইরাসজনিত রোগ হামে মারা যায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ। সে বছর পুরো বিশ্বে ব্যাকটেরিয়া সংক্রামক রোগ টিউবারকিউলোসিসে মারা যায় ১.৩ মিলিয়ন মানুষ। এছাড়া প্রতি বছর টাইফয়েড জ্বরে মারা যাচ্ছে ২ লাখ ১৬ হাজার মানুষ।

২০১৪ সাল: পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ সালে ইবোলা জ্বরে মারা যায় অন্তত ১১,৩০০ জন।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close