আলোচিত

পুলিশ কেন গণপিটুনির শিকার হয়

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায়,এর বিরুদ্ধে নানাবিধ সতর্ক পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে পুলিশকেও গণপিটুনির শিকার দেখা গেছে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, কখনও কখনও সন্ত্রাসীরা ঢাল হিসেবে জনগনের সামনে ভুল বার্তা দিয়ে পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত করে তোলে। আবার কখনও কখনও খোদ পুলিশই তাদের দায়িত্ব পালন না করায় জনগনের পিটুনির মুখে পড়ে। আর গণপিটুনির অভিজ্ঞতার কারণে তারা সহজে মব এর মুহুর্তে দায়িত্ব পালন করতে চায় না। আর বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,আসামী গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ কখনও কখনও আক্রমনের শিকার হয়। কোন পরিস্থিতিতেই পুলিশ মবকে এড়িয়ে যায় না।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যমতে,২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্যের ইন্ধনে এক কৃষককে মাদক ব্যবসায়ী সাজাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছে পুলিশের তিন সদস্য ও এক র্সোস। ওইদিন শিবপুর গ্রামের কৃষক আ্ইয়ুব আলীর বাড়িতে মাদক তল্লাশীর নামে তাণ্ডব চালায় সদর থানার এক এএসআই সহ পুলিশের তিন সদস্য। ভুক্তভোগী আইয়ুবের চিৎকারে পুলিশের সঙ্গে থাকা চার সোর্স পালাতে সক্ষম হলেও এলাকাবাসী জড়ো হয়ে তিন পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে গণপিটুনি দেয়।

এববছর ১৩ জুন বরিশালে ঘুষ না দেয়ায় মোটরসাইকেল আরোহীকে নগরীর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন চৌমাথায় মারধর করেছে পুলিশ। এতে উপস্থিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাফিক পুলিশের দুই সদস্যকে পিটুনি দিয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালককে আটকের চেষ্টা করলে পুলিশের একটি টহল গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।এধরনের অসংখ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত সংবাদ হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, গণপিটুনিতে পুলিশ পড়ে কারণ যারা সন্ত্রাসী তারা পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত থাকে, সাধারণ মানুষও পুলিশকে চিনতে না পেরে বা পুলিশের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে সুযোগ পেলেই আক্রমণ করে।

আক্রমনের শিকার হওয়ায় মবকে এড়িয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটা পুলিশের একটা কৌশলই থাকে যে মবের সামনে সবসময় সতর্ক থাকা। যেটা সে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে না, বা সে যদি সংখ্যায় কম থাকে তাহলে সে মবকে েএড়িয়ে যায়। মিছিল বা মিটিং যখন ভঙ্গ করতে চায়, পাল্টা মানুষ যদি আক্রমনে যায় তাহলে পুলিশ পিছু হটে এবং এসময় যদি কোন পুলিশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে মব তাদের আক্রমণ করে। পুলিশ যখন নিজেকে িএকা ভাবে বা দেখে তখন তার মধ্যে একধরনের ভীতি কাজ করে।

পুলিশকে জনগন পিটুনি দেয় কেন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, মানুষ যখন তার কাঙ্খিত সেবার পায় না তখন সে প্রতিবাদ করতে চায় এবং সেই প্রতিবাদেরও যখন উপায় থাকে না তখন ভেতরে ক্ষোভ জন্ম নেয় এবং কারোর ওপর প্রকাশের সুযোগ এলে সেটি সহিংস রূপ নেয়। তিনি বলেন, পুলিশের সাথে জনগনের ক্ষমতার দুরত্ব আছে। জনগন যখন মনে করে পুলিশ যথাসাধ্য দায়িত্ব পালন করছে না তখনও সে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার জায়গায় নেই বা সঠিক সেবা দাবি করার জায়গা তার জন্য দেওয়া হয়নি। ফলে সে একধরনের সুযোগ খোঁজে যার মাধ্যমে এই না পারার যন্ত্রনা মিটবে।

পুলিশ কখনোই মব এড়িয়ে যায় না উল্লেখ করে পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন,ঘটনার আকস্মিকতা ও ব্যাপকতার কারনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশকে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। কিন্তু, যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যেই পুলিশ পাবলিক অর্ডার ম্যানেজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। এ রকম অগনিত উদাহরন রয়েছে।

পুলিশ কেন গনপিটুনির শিকার হয় প্রশ্নে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আসামী গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ কখনও কখনও আক্রমনের শিকার হয়। আসামী পক্ষের লোকজন অনেক সময় সংঘবদ্ধ হয়ে আসামী ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ রকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সহনশীলতার সাথে পরিস্থিতি মাকাবিলা করে আসামীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে এবং ঘটনা সংক্রান্তে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close