আলোচিত

ডেঙ্গু টেস্টের সরকারি ফি মানছে না পপুলার-বারডেম

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গেল তিন সপ্তাহে রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছে নগরবাসী। মৌসুমের শুরুতে ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাসের বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রায় ব্যর্থ দুই সিটি কর্পোরেশন। ফলে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ভিড় বেড়েই চলছে।

এদিকে ডেঙ্গু শনাক্ত/চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড়কে পুঁজি করে অতিরিক্ত ‘ব্যবসা/মুনাফা’ লাভের আশায় টেস্টের মূল্য ইচ্ছেমত নির্ধারণ করেছিল বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলো। আর এতে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসা ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়।

স্কয়ার হাসপাতালে ২২ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এক রোগীর বিল আসে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার উপরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে হাসপাতালের বিল দেখে চোখ ছানবড়া হয় অভিভাবক ও বন্ধুদের।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোত চিকিৎসা ব্যয় লাগামহীন হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ মোকাবেলায় প্রাইভেট হাসপাতাল/ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিচালক/ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা’ সংক্রান্ত অনুষ্ঠিত সভা থেকে ডেঙ্গু টেস্টের মূল্য নির্ধারণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রোববারই সে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে− ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য টেস্টগুলোর মূল্য নিম্নরূপ হবে: NS1- ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ), IgM + IgE অথবা IgM/ IgE- ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ), CBC (RBC + WBC + Platelet + Hematocrit)- ৪০০ টাকা (সর্বোচ্চ)।

রোববার থেকেই পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ মূল্য তালিকা কার্যকর থাকার ঘোষণাও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। অথচ সরকারের এ নির্দশনা সব হাসপাতাল মানছে না। তবে কোনো কোনো হাসপাতাল আংশিক আবার কোনোটি সম্পূর্ণ অনুসরণ করছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে সরজমিনে রাজধানীর ৬টি সরকারি/বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

দেখা যায়, ঢাকা মেডিকেল ডেঙ্গু টেস্টের সব খরচ সরকারের বেঁধে দেওয়া তালিকার চেয়েও কম নিচ্ছে। এখানে Ns-1 টেস্ট সাড়ে তিনশ টাকায়, IgE-IgM ও CBC টেস্ট দেড়শ টাকায় করা যাচ্ছে।

এ হাসাপাতালে রোগীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি ছিল। সকাল সাড়ে দশটায় হাসপাতালের নতুন ভবনে ডেঙ্গু রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন চিকিৎসকরা।

বারডেম হাসপাতালে Ns-1 টেস্ট ৪৯০ টাকায়, IgE-IgM টেস্ট সাড়ে ছয়শ টাকায় ও CBC টেস্ট সাড়ে তিনশ টাকায় করা হচ্ছে।

এখানেও রোগীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। সকাল সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের নিচতলার ডানদিকে রক্ত সংগ্রহ ডেস্কের সামনে রোগীদের লাইন ছিল বেশ লম্বা।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা করা হয়নি। সেখানে আগের রেটেই Ns1- ৬০৯, IgE-IgM-৬০০ টাকা ও রক্তের CBC পরীক্ষায় জিপিএ ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

তবুও এ হাসপাতালে মানুষের ভিড়ে দম নেয়াটাই ছিল দায়। দুপুর পৌনে ১২টায় নতুন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে অবস্থিত ব্যাংকে বুথগুলোতে ডেঙ্গু টেস্ট করাতে টাকা জমা দিতে আসাদের ছিল উপচেপড়া ভিড়।

হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষণের মূল্য তালিকা নিরীক্ষণকারী কর্মকর্তা বাহালুল হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষণের ল্যাবরেটরি ভাস্কুলার ডিপার্টমেন্টের। তারা মূল্য কমায় নি। যে তালিকা তারা দেয় আমরা সে টাকায় রাখি।

ধানমন্ডিতে পপুলার হাসপাতালের ডায়গনস্টিক সেন্টারে এই তিনটি টেস্ট করাতে প্রয়োজন হচ্ছে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকার বেশি। Ns-1 টেস্ট ৫০০ টাকা, IgE-IgM টেস্ট ৫০০ টাকা ও CBC টেস্ট সাড়ে চারশ টাকার সঙ্গে ৪৫ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হচ্ছে রোগীদের। এই প্রাইসকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ‘ডিসকাউন্ট প্রাইস’ বলছে।

পপুলার হাসপাতালের ডায়গনস্টিক সেন্টারে দুপুর সোয়া ১২টায় ভিড় ছিল স্বাভাবিক।

এদিকে আজ দুপুরে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা বাবদ অতিরিক্ত ফি আদায় করায় পপুলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

জিগাতলায় অবস্থিত ইবনে সীনা ও ধানমিন্ডর মেডিনোভা হাসপাতাল সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই এই তিনটি পরীক্ষণ করছে। তবে দুপুরে এই হাসাপাতালগুলোতে ভিড় ততটা লক্ষণীয় ছিল না।

ইবনে সিনা হাসপাতালে তথ্য অনুসন্ধান ডেস্কের কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করেই রোগীদের টেস্টগুলো করাচ্ছি।

অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহের পরিচালক ডা.আমিনুল হাসান বলেন, ‘এই তালিকা অনুসরণ করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। যারা এটি অনুসরণ করবে না তাদের নাম ভ্রাম্যমাণ আদালত ও হাইকোর্টের কাছে পাঠানো হবে। আমাদের মনিটরিং টিম কাজ করছে।’

এদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের কথা জানা থাকলেও হাসপাতালের অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে রোগীদের তেমন উচ্চবাচ্য নাই। তারা হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মূল্যেই টেস্ট করিয়ে নিচ্ছে।

ঢাকা মেডিকেলে ডেঙ্গু টেস্ট করাতে আসা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে ডেঙ্গু শনাক্তের খরচ কম। কিন্তু লাইন অনেক লম্বা। দীর্ঘ লাইনের সুযোগে দালাদের দৌরাত্ম্য খুব। তারা টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল আগায় দিচ্ছে।

বিএসএমএমইউতে ডেঙ্গু শনাক্তে আসা আয়েশা আক্তার বলেন, সরকারি হাসপাতালের মধ্যে এখানকার পরীক্ষা নীরিক্ষার মান ভালো তাই দাম বেশি হলেও কিছু করার নেই।

 

সূত্র: বার্তাটোয়েন্টিফোর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close