আন্তর্জাতিকআলোচিতলাইফস্টাইল

বেবি পাউডারে ক্ষতিকর অ্যাসবেসটস থাকার কথা জানতো জনসন অ্যান্ড জনসন

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মানব শরীরে ব্যবহারের জন্য উৎপাদিত পাউডারে ক্ষতিকর খনিজ পদার্থ অ্যাসবেসটস’র (উচ্চ তাপ শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন খনিজ সিলিকেট তন্তু) উপস্থিতির কথা কয়েক দশক ধরে জানতো মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন। দীর্ঘদিন ধরেই এই বেবি পাউডার শিশুদের শরীরে ব্যবহারের ফলে মায়েদের ক্যান্সার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কয়েক হাজার মামলাও দায়ের করা হয়েছে আদালতে। তবে প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী দাবি করেছেন, জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার নিরাপদ ও এতে অ্যাসবেসটস নেই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে, পাউডারে অ্যাসবেসটস থাকার এই তথ্য উঠে আসার পর শুক্রবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর ১০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের পণ্য ব্যবহারের কারণে ক্যান্সার হওয়ার দাবি করে সম্প্রতি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার অভিযোগ দায়ের করা হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চালায় রয়টার্স। আদালতে উত্থাপন করা কোম্পানির বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে বার্তা সংস্থাটি দেখতে পায়, অন্তত ১৯৭১ সাল থেকে নিজেদের উৎপাদিত পাউডারে অ্যাসবেসটস থাকার কথা জানতো প্রতিষ্ঠানটি। ওই সময় থেকেই শনাক্তযোগ্য পরিমাণ অ্যাসবেসটসের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত ছিল তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে, মানব শরীরে অ্যাসবেসটস’র গ্রহনের কোনও নিরাপদ মাত্রা নেই। অ্যাসবেসটস গ্রহণকারী অনেকেরই কখনোই ক্যান্সার হয় না আবার কারও কারও ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণও বহু বছর পরে ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। তবে কত সামান্য পরিমাণ তা নির্ধারণ করা হয়নি। জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারীরা অভিযোগ করেছেন, দূষিত ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করার সময়ে যে সামান্য পরিমাণ অ্যাসবেসটস তারা গ্রহণ করেছেন তা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট।

জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিচার চলাকালে আদালতে তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে রয়টার্স। এসব নথিতে দেখা যায় ১৯৭১ সাল থেকে ২০০০’র প্রথম দিক পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অপরিশোধিত ট্যালক (ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ এক ধরনের খনিজ মাটি) এবং প্রস্তুত করা পাউডারে মাঝে মাঝেই সামান্য অ্যাসবেসটসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে বেশিরভাগ পরীক্ষাতেই অ্যাসবেসটসের উপস্থিতি ছিল না। নিয়ন্ত্রকের কাছে এই ফলাফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনকে এক পাক্ষিক, ভুয়া এবং উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বলে মন্তব্য করেছেন জনসন অ্যান্ড জনসনের আইনজীবী। আইনজীবী পিটার বিকস বলেন, রয়টার্সের প্রতিবেদনটি এক অন্তঃসারশূন্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। এক ইমেইল বার্তায় রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য হলো শরীরে ব্যবহার্য ট্যালকভিত্তিক পাউডারে ব্যবহার করা ট্যালকের কারণে ক্যান্সার হয় না। এতে ওই ট্যালকে যাই থাকুক না কেন’। ‘এটা তখন সত্য হবে যদি জনসন অ্যান্ড জনসনের কসমেটিক ট্যালকে সামান্য পরিমাণ, অশনাক্তযোগ্য অ্যাসবেসটস থাকে- যদিও তা নেই’, বলেন তিনি।

আইনজীবী বিকস বলেছেন, রয়টার্স যে পরীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়েছে সেগুলো কোম্পানির যথাযথ পরীক্ষার ফলাফল নয়। আর আদালতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি দিয়েছে এসব নথির কোনও কোনোটি ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্যালক পণ্য।

পাউডারে অ্যাসবেসটসের উপস্থিতির খবর সামনে আসার পর জনসন অ্যান্ড জনসনের শেয়ারের দর কমেছে ১০ শতাংশেরও বেশি। আর এই দরপতন শেয়ার বাজার সূচক দ্য ডোতে সর্বোচ্চ দর পতনের ঘটনা।

আদালতে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ফলাফল মিশ্র। গত জুলাইতে ২২ নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দেয় আদালত। এই নারীরা দাবি করেছিলেন কোম্পানির ট্যালক পণ্যের কারণে তাদের ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ছড়িয়েছে। কোম্পানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই ক্ষতিপূরণের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back to top button
Close
Close